লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মারপিঠের মামলা উঠলো আদালতে

161

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
লংগদু উপজেলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বারেক সরকারের বিরুদ্ধে মারপিঠের অভিযোগে মামলা হয়েছে বিজ্ঞ আদালতে। সোমবার (২৪আগষ্ট) দুপুরে রাঙামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এর জ্যৈষ্ঠ বিচারক সবুজ পাল মামলাটি আমলে নেন। প্রাথমিক শুনানী অনুষ্ঠিত হলেও এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা জানা যায়নি।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি রিমন সরকার বলেন, গত ১৭আগষ্ট সকাল ১০টার দিকে লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিনকে জায়গা সংক্রান্ত আপোষের নামে মাইনী এলাকার আ’লীগের দলীয় কার্যালয়ে ডেকে এনে চেয়াম্যান মো. আব্দুল বারেক সরকার বেধড়ক মারপিঠ করে। এরপর মোসলিম উদ্দিন রাঙামাটি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ২৪আগষ্ট দুপুরে মারপিঠের অভিযোগে এনে রাঙামাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩২৩ এবং ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং সি আর ১৭৭/বি। তারিখ ২৪ আগষ্ট ২০২০।

মামলার বাদী মোসলেম উদ্দিন বলেন, লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের রাজানগর এলাকায় আমার নামে টিলা জমি ৬০শতাংশ, ধানের জমি ৭৫শতাংশ এবং বসবাসের জায়গা ১একর ৩৫শতক জায়গা রয়েছে। জায়গাগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫০লাখ টাকা। কিন্তু চেয়ারম্যান বারেক সরকার আমার জায়গাগুলো অন্যর কাছে মাত্র ছয় লাখ টাকায় বিক্রি করতে জোর করে। আমি না মানায় গত ১৭আগষ্ট সকালে মাইনী এলাকার আ’লীগের দলীয় কার্যালয়ে আপোষের নাম করে আমাকে ডেকে নেয়। এরপর আমার মেয়ের জামাই ও অপর দু’আত্মীয়ের সামনে আমাকে বেধড়ক মারপিঠ করে।

লংগদু উপজেলার চেয়ারম্যান বারেক সরকার এইসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে মতামত ব্যক্ত করে বলেন, আমি চেয়ারম্যান। সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা ভাবতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমি মোসলেম উদ্দিনকে হাতে ধরে বলেছিলাম, আপনার জায়গাগুলেরা এত মূল্য নেই। তাছাড়া এই জায়গা রুহুল আমীনের। বর্তমানে জায়গাগুলো রুহুল আমীনের দখলে আছে। আপনি সমস্যা না বাড়িয়ে ছয় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর মোসলেম উদ্দিন উত্তেজিত হলে তিনি একটি ধাক্কা দেন বলেও স্বীকার করেন উপজেলার চেয়ারম্যান বারেক সরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আদালতে মামলা হলে বিধি মোতাবেক মোকাবিলা করবো। এসময় তিনি মোসলিম উদ্দিনকে জায়গা দখলবাজ হিসেবেও আখ্যা দেন।