শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তিতে আওয়ামী লীগের সমাবেশ : সন্তু লারমা একা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না

413

P..2

 

 

এম.নাজিম উদ্দিন , ২ ডিসেম্বর   ২০১৫, দৈনিক রাঙামাটি : প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে একা সন্তু লারমা পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হলে আওয়ামী লীগ ও জেএসএসকে এক সাথে কাজ করতে হবে। জনসংহতি সমিতি ও আওয়ামী লীগ যদি একে অপরের বিরোধীতা করে তাহলে চুক্তি বিরোধী শক্তি বিএনপি-জামাত লাভবান হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে খুব শিঘ্রই ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি আইনের বিল উত্থাপন হবে। এ আইনে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি-বাঙালি কারো ক্ষতি হবে না। তিনি বুধবার রাঙামাটি পৌরসভা চত্বরে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি চুক্তির ১৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চুক্তির অধিকাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে বাকি অংশটুকু খুব দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। চুক্তি বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চুক্তি সম্পাদনের পর বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থাকা কালীন চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিলো। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জীবন যাত্রা স্বাভাবিক না থাকলে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে না। তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তির একটি অন্যতম দিক এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন। আওয়ামী লীগ সরকার চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নের কাজ করে চলেছে। কিন্তু যারা চুক্তি বাস্তবায়নের নামে উন্নয়ন বাধা গ্রস্ত করছেন তারা মূলত পার্বত্য চুক্তিরই বিরোধীতা করছেন। তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজি পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রধান অন্তরায়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বারবার দাবি তোলেন যে, পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়নের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। অন্যথায় আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে কোন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করতে পারবে না। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মোঃ মুছা মাতাব্বর এর পরিচালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, জেলা পরিষদ সদস্য অংশু প্রু চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনছুর আলী, কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অংশু সাইন চৌধুরী ও লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক সরকার।

সমাবেশে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল সহকারে যোগ দেন। এসময় পৌরসভা প্রাঙ্গন ও আশে পাশের এলাকা জনসমাগমে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান