ষষ্ঠীপূজার মধ্যদিয়ে রাঙামাটির ৪১পূজা মন্ডপে দুর্গোৎসব শুরু

315

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গোৎসব সোমবার (১১ অক্টোবর) মহা ষষ্ঠীপূজার মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে। দেবীর বন্দনার জন্য রাঙামাটির ৪১টি পূজা মন্ডপে পাঁচদিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা রয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর আনুষ্ঠানিকতা কিছু কম হলেও এবছর করোনা পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় সনাতন সম্প্রদায়ের মাঝে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। আর দূর্গোৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে রাঙ্গামাটি বিভিন্ন পূজা মন্ডপগুলো বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছে। তার পরও রাঙ্গামাটির প্রতিটি পূজা মন্ডপে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মাস্ক ব্যবহারের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকাল থেকে পুরোহিতরা পূজার শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন মন্দিরগুলোতে।

রোববার (১০ অক্টোবর) সারাদেশের পূজামন্ডপগুলোতে মহাপঞ্চমীর আনুষ্ঠানিকতা দুর্গা দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে এই বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পূজা করা হয়। মন্ডপে-মন্দিরে পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এই বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১২ অক্টোবর মহা সপ্তমী, ১৩ অক্টোবর মহা অষ্টমী, ১৪ অক্টোবর মহা নবমী এবং ১৫ অক্টোবর মহা দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে সনাতন সম্প্রদায়ের এই শারদোৎসবের বলে জানান, শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দিরের পুরোহিত পুলক চক্রবর্তী।

বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী, দেবী দুর্গা এবার আসছেন ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায় চড়ে। ঘোড়া এমন একটি বাহন যা যুদ্ধের সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ঘোড়ার পায়ের শব্দও যুদ্ধেরই ইঙ্গিত দেয়। তাই পঞ্জিকা মতেই ঘোটকে আগমন মানেই ছত্রভঙ্গের কথাই বলা হয়। অর্থাৎ এই সময়ে যুদ্ধ, অশান্তি, হানাহানির সম্ভাবনা থাকে। পঞ্জিকা বলছে, মা দুর্গার এবার দোলায় গমন। দোলায় গমনের ফলাফল হল মড়ক লাগা।

রাঙ্গামাটি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, স্বপন কান্তি মহাজন জানান, রাঙ্গামাটির পূজা মন্ডপগুলোতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। আর দর্শনার্থীরা যাতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মাক্স পড়ে পূজা মন্ডবে আসেন তার জন্য প্রত্যেকটি পূজা মন্ডবে যারা দায়িত্বে থাকবে তাদের নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ আহমেদ বলেন, রাঙ্গামাটি পূজা উদযাপন কমিটির সাথে সমন্বয় করে রাঙ্গামাটির ৪১টি পূজা মন্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যাতে করে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। আশা করি সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গোৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

উৎসব হোক সবার ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়–ক। করোনা মহামারী থেকে পুরো পৃথিবীর মুক্ত হোক এই কামনা করে সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন মন্দিরে মন্দিরে আরাধনা করছে।