সংঘাত নয় শান্তির মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসবে সমৃদ্ধি: ঢাকার বেইলি রোডে ‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

502

নিজস্ব প্রতিবেদক- ২৮ অক্টোবর ২০১৮, দৈনিক রাঙামাটি:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে সেখানে শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে ভূমি বিরোধ নিরসনে ভূমি কমিশনের কাজে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পার্বত্য চট্টগামে আর কোন সংঘাতময় পরিস্থিতি চাই না। আমরা চাই এ অঞ্চলের জনগণ যেন ভালো থাকে এবং এখানে শান্তি বজায় থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর বেইলী রোডে তাঁর নামে নির্মিত ‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’র উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি বলেন, সংঘাত নয় শান্তির মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসবে সমৃদ্ধি।


সরকার প্রধান বলেন, একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ না থাকলে উন্নয়ন করা যায় না। একথা মনে রাখতে হবে, আজকে সারা বাংলাদেশে যে আর্থসমাজিক উন্নয়ন হচ্ছে তার কারণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। এটা বজায় থাকলেই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়। তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ এই ধরনের উন্নয়নের মাধ্যমেই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারবো। ইতোমধ্যে তাঁর সরকার পার্বত্য এলাকায় এক হাজার ৬শ’ ৫৯ কি.মি. রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যূৎ দিচ্ছি, যেখনে বিদ্যূতের গ্রিড লাইন নাই সেখানে সোলার প্যানেল করে দিচ্ছি যাতে কোন ঘর অন্ধকারে না থাকে। সব ঘরে যেন আলো জ্বলে। সকলেই যেন ভাল থাকেন সেই আশাবাদ ব্যাক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর কোন সংঘাত নয়, সকলেই যেন ভালো থাকেন। যে শান্তিচুক্তি আমরা করেছি সেই শান্তি যেন পাহাড়ে বজায় থাকে।’ তিনি বলেন, ‘শান্তির মধ্যদিয়েই সমৃদ্ধি অর্জন করা যায়। শান্তির পথ ধরেই আসবে প্রগতি। আর গ্রগতিই নিয়ে আসবে সমৃদ্ধি। আর এই সমৃদ্ধির পথ ধরেই আমরা জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।’

কোটার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোটা বাতিল করা হলেও পিএসসিকে বলে দেওয়া হয়েছে যেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ২০ বছর পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ সর্বোচ্চ অবহেলিত ছিলো। ২০ বছরের বঞ্চনা পূরণের জন্য বিশেষ করে বরাদ্দ দিয়ে দিয়ে কলেজ, স্কুল, রাস্তাঘাট করে দিয়েছি। এই অঞ্চলের আরো উন্নয়ন আমরা চাই। এই এলাকায় উন্নয়নে আর কি কি করণীয় সেই প্রস্তাবনা আপনারাও আনতে পারেন যেন আমরা সেসব বাস্তবায়ন করতে পারি।


গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পার্বত্য চট্টপ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং এমপি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং এ মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুল আমিন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়াও মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনিতিকগণ, উন্নয়ন সয়স্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ওপর একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সম্পাদনা ও পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান। তথ্যসূত্র- বাসস, ঢাকাটাইমস.কম