সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে রাঙামাটির সাজেকে ফের তিন খুন

396

২৮ মে, ২০১৮ খ্রিঃ><স্টাফ রিপোর্টার>

সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন সাজেক ইউনিয়নে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপ) তিন কর্মীকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। এসময় আরো একজন গুরুতর আহত হয়। চলতি মাসের ৩ তারিখ রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংস্কারপন্থী জেএসএস নেতা এডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা এবং পরদিন তারই শেষকৃত্যে যোগ দিতে আসা গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ নেতা বর্মাসহ আরো পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনা তারই প্রতিশোধ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। এ নিয়ে চলতি মাসে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে শুধুমাত্র রাঙামাটি জেলাতেই তিন সন্ত্রাসী গ্রুপের ৯ জন খুন হলো।

নিহতরা হলো- ওই এলাকার সুগোরচুগো চাকমা ওরফে স্মৃতি চাকমা (৫০), সাজেক ইউনিয়নের ঝগড়াবিল এলাকার অটল চাকমা (৩০) ও সঞ্জীব চাকমা (৩০)। আর গুলিবিদ্ধ আহত হয় কানন চাকমা নামের একজন।  নিহত সঞ্জিব চাকমা গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি উপজেলার নেতা ছিলেন বলে

জানিয়েছেন যুব ফোরামের বাঘাইছড়ি ও সাজেক ইউনিটের পরিচালক জুয়েল চাকমা। তিনি জানান, সোমবার (২৮ মে) ভোর ৫টার দিকে ওই ইউনিয়নের গঙ্গারাম করল্যাছড়ি এলাকায় একটি বাড়িতে অবস্থানরত ইউপিডিএফ’র চার কর্মীর উপর ব্রাশ ফায়ার করে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ (বর্মা গ্রুপ)  এবং জেএসএস সংস্কারের (এমএন লারমা গ্রুপ) ক্যাডাররা। ঘটনায় তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা গেলেও একজন ভাগ্যক্রমে বেঁেচ যায়। আহত হয় কানন চাকমাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোমবার ইউপিডিএফ’র প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নিরণ চাকমা স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় গণমাধ্যমে। বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার জন্য তারা জেএসএস সংস্কার (এমএন লারমা গ্রুপ) এবং গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফকে (বর্মা গ্রুপ) দায়ী করেছে।

এদিকে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের মুখপাত্র মাইকেল চাকমা এ ঘটনার জন্য জেএসএস সংস্কার (এমএন লারমা গ্রুপ) এবং গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফকে (বর্মা গ্রুপ) দায়ী করে বলেন, আমাদের নেতা-কর্মী হত্যা করে ইউপিডিএফ-কে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না । গঠনলগ্ন থেকেই ইউপিডিএফ’র উপর রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। কিন্তু কোন অপশক্তিই ইউপিডিএফ’র অগ্রযাত্রাকে রোধ করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ইউপিডিএফ তার লক্ষ্য বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।

এ ঘটনা অস্বীকার করেছেন গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ’র  (বর্মা গ্রুপ) মুখ পাত্র লিটন চাকমা। তিনি বলেন, আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িত নই।

এদিকে জেএসএস সংস্কার’র (এমএন লারমা গ্রুপ) তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, ইউপিডিএফ গত ছয় মাস ধরে আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর যে নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে আজকের ঘটনা তাদের কর্মের ফল। আমাদের কর্মীরা কাউকে প্রত্যাঘাত করেনি। এই ঘটনার সাথে আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আনোয়ার বলেন, এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যৌথ বাহিনী চারদিকে এলাকা ঘিরে রেখেছে।