সরকারি চাকরির প্রভাব খাটিয়ে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

442

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

পাবলিক হেলথ এলাকায় সরকারী চাকুরির প্রভাব খাটিয়ে এবং আদালতের স্থিতি আদেশ অমান্য করে তন্দ্রা দাশ নামের ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে প্রতিবেশী শিক্ষানবিস আইনজীবি মো. নুর হোসেনের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তন্দ্রা দাশ পাবলিক হেলথ এ অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন এবং দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বহিরাগত লোকজন এনে হুমকি-ধামকি দেওয়ার ও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী এই পরিবার।

সম্প্রতি এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের অধিন রাঙামাটি জেলা পরিষদে হস্তান্তরকৃত জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মচারী তন্দ্রা দাশের বিরুদ্ধে রাঙামাটির জেলা যুগ্ম জজ আদালতে মো. নুর হোসেন ৪জনকে আসামী করে দেওয়ানী মামলা (৭৮/২০২২) দায়ের করেন। পরে ০১/০৬/২০২২ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালত বিচারাধীন তফসীলোক্ত সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু বিবাদী পক্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পরদিন সকালেই বাদী পক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করে। সুধু হুমকি-ধামকি দিয়েই বসে থাকেনি বিবাদী। তারা প্রতিবেশিকে প্রভাবিত করে নুর হোসেনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. নুর হোসেন। সাংবাদিকরা বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে গেলে সাংবাদিকদের আসার বিষয়টি টের পেয়ে জনৈক শফি ও জাহাঙ্গীর চলাচলের রাস্তাটি খুলে দিয়ে সটকে পড়ে।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী মো. নুর হোসেন বলেন- আমি প্রায় ২বছর আগে সালেহা বেগম থেকে ৬লক্ষ টাকা দিয়ে জায়গা ক্রয় করে বসবাস করছি এবং ক্রয়কৃত খালি জায়গাটিতে চাষাবাদ করে আসছি। ২০২১ সালের নভেম্বরে হটাৎ পাবলিক হেলথ এর অফিস সহকারী তন্দ্রা দাশ স্বপরিবারে বহিরাগত ২০/২৫জন বহিরাগত লোকজন নিয়ে কলা গাছ, পেঁপে গাছসহ আমার চাষ করা গাছপালা ধংস করে এবং আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর আমি আদালতের দ্বারস্থ হই। পরবর্তিতে বিজ্ঞ আদালত বিচারাধীন তফসীলোক্ত সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা কে অমান্য করে তন্দ্রা দাশ ও তার মা বিচারাধীন জায়গায়টি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে আমার ঘরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় আমি ও আমার পরিবার জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিষয়টি রাঙামাটি কতোয়ালি থানাকে অবগত করি। এঘটনার পর আমার প্রতিবেশী মো. শফি ও জাহাঙ্গীরকে প্রভাবিত করে তন্দ্রা দাশ আমার ঘরের দরজায় চেরাই কাঠ দিয়ে একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।

এদিকে স্থানীয় আইয়ুব আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- চাকরির সুবাদে তন্দ্রা দাশ দীর্ঘদিন যাবৎ পাবলিক হেলথ এর সরকারি কোয়াটারে বসবাস করে আসছেন। কোয়াটারে বসবাস করলেও সে তার পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু খাস জায়গা দখল করে বিক্রি করেন। আরো কিছু দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমরা যারা দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছি, এই জায়গা নিয়ে সে চাকরির প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। আমরা গরিব অসহায় তারা প্রভাবশালী তাদের সাথে আমরা পেরে উঠি না।

এবিষয়ে নুর হোসেনের প্রতিবেশী মো. শফির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিবাদ থাকায় স্থানীয়ভাবে মিমাংসার জন্য বসার কথা থাকলেও নুর হোসেন না বসায় আমরা তার চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেই। যদিও পরে কেন রাস্তাটি খুলে দিয়েছে এবিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

অপরদিকে তন্দ্রা দাশের কাছে এবিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন- আমি চাকরির সুবাদে ২৫/২৬ যাবৎ এখানে বসবাস করে আসছি। গত ২১সালে নুর হোসেন এই এলাকায় জমি কিনে বসবাস শুরু করে। সে বেড়া ভেঙে আমার দখলীয় জায়গা দখলের চেষ্টা করছে এবং আমার নামে উল্টা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। আমি জমি ক্রয় করে বসবাস করছি। আমি কোন জায়গা-জমি বিক্রি করিনি বরং আমি আমার বসতবাড়ির পেছনে গাছপালা লাগিয়েছি। লোকজন জড়ো করে নুর হোসেন কে হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার মায়ের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। সরকারী চাকরী করেও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান- এটা কোন সরকারী চাকরী নয়, আমি অস্থায়ীভাবে চাকরী করছি। আমি ইচ্ছা করলে চাকরী ছেড়ে দিতেও পারি আবার ইচ্ছা করলে রাখতেও পারি। এটা আমার ইচ্ছা।

এবিষয়ে জানতে পাবলিক হেলথ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। বিষয়টি নিয়ে পাবলিক হেলথ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।