সাফাল্য গাঁথা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে জুরাছড়ির প্রমিলা ক্রিকেটের মেয়েরা

362

॥ স্মৃতিবিন্দু চাকমা ॥

এসব দূর্গম এলাকা থেকে এভাবে এগিয়ে যাবে তারা কখনো ভাবতে পারেনি। সত্যি এক অশল্পনীয় বিষয় বাস্তবে রুপ নিচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে। বিষয়টি জেনে খুবই আনন্দিত তাদের পরিবার পরিজন ও এলাকার সর্বস্থরের মানুষ। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা দূর্গম একটি উপজেলা জুরাছড়ি। রাঙামাটি শহর থেকে জুরাছড়ি উপজেলার দুরত্ব নৌপথে ৭০ কিলোমিটার,এমই একটি উপজেলা থেকে ঢাকায় প্রথম ডিভিশনে চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন মালিকানাধীন সাইনিং স্পোর্টস একাডেমি হয়ে প্রথম ডিভিশন খেলার জন্য সুযোগ তৈরী হয়েছে তাদের।

বিভাগীয় পর্যায়ে যাতে তারা ভালো পারফমেন্স দেখাতে পারে সে লক্ষে ইতিমধ্যে প্রশিক্ষক তনয় চাকমাকে সাথে নিয়ে তাদের ঢাকায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একটি প্রবাদ বাক্য আছে অধ্যবসায়ের দ্বারা সফলতা লাভ করা যায়, বছরকে বছর ধরে পরিশ্রম করে যাচ্ছে এসব মেয়েরা, ডিভিশনে তাদের ভালো পারফমেন্স দেখাতে পারলে ভবিষ্যতে হয়তো জাতীয় টিমে তাদের নাম অন্তভূক্ত করে বিশ^ অঙ্গনে তাদের নাম ছড়িয়ে পড়বে। এদের এতটুকু এগিয়ে যাওয়ার পিছনে কৃতজ্ঞ চিত্তে সবচেয়ে একজনের নাম স্বীকার করতে হয়,যার অবদান অুুলনীয় তিনি হচ্ছেন জুরাছড়ি উপজেলার সাবেক ইউএনও বর্তমানে মহেষখালী উপজেলার দায়িত্বরত নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। তিনি দুরে থাকলে এখনো পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন ।

তবে এসব মেয়েদের এগিয়ে যাওয়ার পিছনে আরো অনেকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, এসব প্রমিলা ক্রিকেটের মেয়েদের প্রশিক্ষণের জন্য সকল প্রকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে উপজেলা পরিষদ ও বর্তমান ইউএনও জীতেন্দ্র কুমার নাথ। সাইনিং স্পোর্টস একাডেমি থেকে ডাক পাওয়ার পর ইতিমধ্যে ইউএনও তাদের হাতে কিছু নগদ অর্থ ও তুলেদেন।

একটি সময়ে জুরাছড়ি উপজেলার ক্রীড়ার ক্ষেত্রে কোন নাম গন্ড ছিলনা, আজ এই জুরাছড়ি উপজেলার ক্রীড়ার ক্ষেত্রে বহুদিকে সুনাম ছড়িয়ে পড়ার পিছনে ভুবনজয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শান্তিময় চাকমা অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর হইতে বিভিন্ন ইভেন্টে প্রশিক্ষক নিয়োগ করে বছরব্যাপী খেলোয়ারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুবাদে বিগত সময়ে কাবাডি খেলায় জাতীয় চ্যাম্পিয়ন গৌরব অর্জন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে এবার প্রমিলা ক্রিকেটের মেয়েরা ও বহুদুর এগিয়ে যেতে চাই। হতে চাই ভবিষ্যতে ক্রীড়াঙ্গনে উজ্জল নক্ষত্র। কথা হয় ক্রিকেটার বৃষ্টির সাথে তিনি জানান, আমি এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান গ্রামের বাড়ি ও উপজেলা সদর থেকে অনেক দুরে। এবারে সবে মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিলাম। ভবিষ্যতে ক্রিকেট খেলা দিয়ে দেশ এবং জাতির সুনাম অক্ষুন্ন রেখে বিশ^দরবারে একজন ভালো ক্রিকেটার খেলোয়ার হতে চাই। বৃষ্টি চাকমার মত এখই কথা বলেন তার সহপাঠিরা সকলের কাছে আর্শিবাদ প্রার্থনা করেন যাহাতে প্রথম ডিভিশনের খেলা মধ্যেদিয়ে জাতীয় পর্যায়ে তাদের নাম লিখতে পারে।

প্রশিক্ষক তনয় চাকমা জানান,মেয়েদের পিছনে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে প্ররিশ্রম করে আসতেছি, আমার মেয়েরা যদি ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে মনে করব। তিনি আশাবাদি ভবিষ্যতে তার ছাত্রীরা ভালো সুনাম অর্জন করতে পারবে।