সারাদেশে এখনও জঙ্গীবাদ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি: আইজিপি- একেএম শহীদুল হক

490


বিতর্কবিকাশ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি প্রদান করছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণসহ অন্যান্যরা।

 

স্টাফ রিপোর্ট- ২২ আগস্ট ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি(প্রেস বিজ্ঞপ্তি): হলি আর্টিজনের ঘটনার পর সারাদেশে জঙ্গীদের সাথে আরও ২৩টি সম্মুখ যুদ্ধের ঘটনা ঘটলেও এখনও জঙ্গীবাদ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। জঙ্গীবাদ নির্মূলে শুধু আইনের ব্যবহার নয় একই সাথে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। নতুন করে যাতে আরও জঙ্গী তৈরি না হয় সেজন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সমাজিক সংগঠন সবাইকে কাজে লাগাতে হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অন্যরকম সিগন্যালের কারণেই এর আগে জজ মিয়া নাটক তৈরি হয়। ফলে মূল ঘটনা উদঘাটিত হয়নি, যা জঙ্গীবাদকে আরও উৎসাহিত করেছে।

গত কার ২১ আগস্ট রাজধানীর তেঁজগাওস্থ এফডিসিতে ব্র্যাক, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও এটিএন বাংলা আয়োজিত বিতর্কবিকাশের ফাইনাল বিতর্কে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক জনাব একেএম শহীদুল হক, বিপিএম, পিপিএম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক জনাব একেএম শহীদুল হক আরো বলেন, জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে শুধু সামাজিক অঙ্গীকার নয়,  রাজনৈতিক এবং সামাজিক এই দুটো অঙ্গীকারকেই কাজে লাগাতে হবে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার কাজে না লাগানো গেলে প্রশাসনযন্ত্র অচল হয়ে যাবে। যারা ক্ষমতায় থাকবে এবং যারা ক্ষমতার বাইরে থাকবে তাদেরকেও প্রেসার গ্রুপ হিসেবে জঙ্গী প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। যারা ক্ষমতায় থাকবে তাদের আন্তরিকতা থাকলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করে জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে সক্ষম হবে। জঙ্গীবাদকে উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে কুরআন, হাদীসের অপব্যাখা দেওয়া হচ্ছে এটি প্রতিরোধে তরুণদের সামনে সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক, সামাজিক অঙ্গীকার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যে কারণে আমরা কেবল আইন শৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, ধর্মীয় নেতাদেরও পরামর্শ নিয়েছি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়, শিক্ষকবৃন্দ-সবাইকে সম্পৃক্ত করে জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, জঙ্গীবাদ নিরসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীকে সহযোগিতা করা নাগরিক দায়িত্ব, একইসাথে জঙ্গীবাদ নির্মূল করতে গিয়ে যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা তাদের পরিবার হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন জঙ্গী দমনে গ্রেফতার, জেলহাজত বা হত্যা কোনো সমাধান নয়। জঙ্গীবাদ থেকে ফিরিয়ে আনতে বিপদগামী তরুণদের কাউন্সিলিং, সৃজনশীলতা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা, খেলাধূলো, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তাদেরকে নিয়োজিত রাখতে হবে। ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে দরিদ্রতা কিংম্বা বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ তরুণদের আত্মঘাতি পথে নিয়ে যেতে না পারে তার জন্যে পিতা-মাতা, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ইসলামী স্কলার, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, যাতে সন্তানের জঙ্গীবাদী তৎপরতার জন্যে আর কোনো বাবাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে না হয়, তার জন্যে প্রত্যেক তরুণ কিশোরকে জঙ্গীবাদের অপপ্রচার থেকে দূরে রাখতে হবে।

ফাইনাল বিতর্কে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ করিমউদ্দিন পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় নকলা শেরপুরের নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। শ্রেষ্ঠ বক্তা হন মোছা. আফিয়া জাহিন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলসহ অংশগ্রহণকারীদের ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। চ্যাম্পিয়ন দলকে পুরস্কার হিসেবে ৩০ হাজার টাকা, রানার আপ দলকে ২৫ হাজার টাকা এবং শ্রেষ্ঠ বক্তাকে ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় পক্ষ দল কালীগঞ্জ করিমউদ্দিন পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের বক্তারা ছিল- উম্মে হাবিবা লিমা, আজরা নুসরাত ঐশী ও মোছা. আফিয়া জাহিন এবং বিপক্ষ দল নয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের বক্তারা হলো- জেবা আফিয়া জিশা, রেবেকা সুলতানা ইতি এবং স্বর্ণালী আক্তার বৃষ্টি।

বিচারক ছিলেন-অধ্যাপক-লেখক আবু মোহাম্মদ রইস, অতিরিক্ত কর কমিশনার সাবিনা ইয়াসমিন, চ্যানেল আই-এর বিশেষ প্রতিনিধি মোরসালিন বাবলা।

এবারের ৮ম জাতীয় বিতর্ক বিকাশ প্রতিযোগিতায় ৩ হাজার ৫০০ টি স্কুল অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও গত ৯ বছরে সারা দেশের ১৬ হাজার ৫’শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২ লক্ষ ২০ হাজার বিতার্কিক অংশগ্রহণ করেছে।

প্রধান অতিথি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকএকেএম শহীদুল হক এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ-এর সাথে অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের দেখা যাচ্ছে।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।