স্বাভাবিক হতে শুরু করছে রাঙামাটির জনজীবন: বাজারে পণ্য সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল

408


আলমগীর মানিক, মঈন উদ্দীন বাপ্পী- ১৮ জুন ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি:  টানা বর্ষণে বিপর্যয়ের মুখে পড়া রাঙামাটির পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসেছে। রাঙামাটি শহরসহ জেলার সবখানে পণ্য সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় দ্রব্যমূল্য সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া কেউ যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মুনাফা লুটতে না পারে সে জন্য জেলা প্রশাসন থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংসহ ভ্রাম্যমাণ আদলত পরিচালনা করা হচ্ছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান রোববার এক জরুরী সমন্বয় সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, রাঙামাটির শহরের বাজারগুলোতে বর্তমানে জ্বালানী তেলেরও কোনো সঙ্কট নেই। তিনি জানান, গত দুইদিনে রাঙামাটি শহরে ২৯ হাজার লিটার অকটেন পৌঁছেছে। সেই সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিলিন্ডার গ্যাসের সরবরাহ এসেছে। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় দামও স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি  ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দ্রব্যমূল্য ও পণ্য পরিস্থিতি নিয়ে কিছু কিছু গণমাধ্যম অসত্য তথ্য পরিবেশন করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

জেলা প্রশাসক জানান, দুর্গত মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জরুরী বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর ও পানি পরিশোধনের জন্য মোবাইল প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। গত দু’দিন কাপ্তাই হয়ে নৌ পথে যাতায়াত ব্যবস্থা চালু হওয়ায় রাঙামাটি বাজারের পন্য সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল হয়ে গেছে। এ ছাড়া জেলায় পর্যাপ্ত খাদ্যও মজুদ রয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, রাঙামাটির ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিতদের খাদ্য সরবরাহসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সুবিধা দিতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও রেড ক্রিসেন্টক যৌথভাবে কাজ করছে। জেলা প্রশাসনের মনিটরিং ছাড়াও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি আশ্রয় কেন্দ্রে তদারকি চলছে। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন দুর্গত মানুষের দুঃসময়কে পুঁজি করে কেউ ফায়দা লটার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন ঘুরপথে পণ্য আনায় যদি বাড়তি ব্যয়ের প্রয়োজন হয়, আপনারা আমাদের জানালে প্রয়োজনে বাড়তি ব্যয় জেলা প্রশাসন বহন করবে, কিন্তু দ্যব্যমূল্য বাড়ানো যাবে না। তিনি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এ বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।