স্বার্থানেষী মহল গুজবের মাধ্যমে পাহড়ে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করছে : রাঙামাটি পুলিশ সুপার

530

p.1-1

আলমগীর মানিক, ২৯ নভেম্বর ২০১৫, দৈনিক রাঙামাটি : রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান বলেন, ভিন্ন ভিন্ন চেহারার মানুষজন আর হরেক রকম সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি নির্ভর আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম। এখানে আমরা সকলেই বাংলাদেশী পরিচয়ে স্ব-স্ব জাতি গোষ্ঠির সংস্কৃতি-কৃষ্টি কালচার নিয়ে বসবাস করবো এমন প্রত্যাশা আমাদের সকলেরই হওয়া উচিত। তিনি বলেন, একশ্রেণীর স্বার্থানেষী মহলের সাম্প্রদায়িক দুষ্কর্মের মাধ্যমে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে তিলকে তাল করে ছড়িয়ে দেওয়ার গুজবে আমাদের পাহাড়ে নানা সময়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই গুজবীয় দ্বন্দ্বের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আমাদের বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠির মধ্যকার সৌহার্দ্যপর্ণ পরিবেশ, সৃষ্টি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের মতো ঘটনার। যতক্ষণ পর্যন্ত এখানকার দায়িত্বশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও গোষ্ঠিগত প্রধান তথা তৃণমুল পর্যায়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এসব বন্ধে আন্তরিকভাবে এগিয়ে না আসেন, ততক্ষণ আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে শত চেষ্টা করলেও এসব ঘটনার সুরাহা সম্ভব নয়।

পুলিশ সুপার বলেন, আমাদের সমাজের সচেতন ব্যক্তিবর্গ যদি প্রত্যেকে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে নিজেদের দায়িত্বটুকু পালন করি তাহলে অনেক ধরনের দ্বন্দ্ব থেকে সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব। ছোটো খাটো বিরোধ থাকতেই পারে এইসব বিরোধকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধা করা সম্ভব। কিন্তু ছোটো খাটো কিছু বিষয়কে পুঁজি করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের একটি গোষ্ঠি এইসব বিরোধকে উসকে দিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

এসময় রাঙামাটি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শহিদ উল্লাহ, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার চিত্ত রজ্জন পাল, ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ এর প্রকল্প প্রধান প্রসেনজিত চাকমা, প্রকল্প কর্মকর্তা ঐশ্বর্য চাকমা, ঝুমা দেওয়ানসহ লোকাল ট্রাস্ট বিল্ডারস এলায়েন্স এর সিনিয়র সদস্য মৈত্রী দেওয়ান, এজাজ নবী রেজা, সাংবাদিক আলমগীর মানিকসহ এলটিবির অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় লোকাল ট্রাস্ট বিল্ডারস এলায়েন্স কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ডের একটি ভিডিও প্রতিবেদন তুলে ধরেন ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ কর্মকর্তা ঝুমা দেওয়ান।

মতবিনিময় সভায় ট্রাস্ট বিল্ডারস এলায়েন্সের কর্মকর্তা ও সদস্যরা তাদের করনীয় সম্পর্কে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন। এছাড়াও পুলিশ কর্মকর্তাগণও তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ তুলে ধরেন । সকলের মতামত শুনে পুলিশ সুপার বলেন, তিন পার্বত্য জেলা ব্যতিত দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে বসবাসকারিরা সেই জেলার বাসিন্দা তথা বাংলাদেশী পরিচয় দিয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামেই একটি বিশেষ স্বার্থানেষী মহলের কারনেই পাহাড়ি-বাঙ্গালী শব্দের প্রচলন রয়েছে। আর এইসব কারনেই নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের জীবনের শুরতেই সাম্প্রদায়িকতার ম্যাসেজ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যার বাস্তব রূপ আমরা সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটিতে দেখতে পেয়েছি। আমরা এটা মোটেও কামনা করিনা। আমরা চাই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি নির্ভর জাতি-গোষ্টির সকলেই মিলেমিশে সম্প্রীতির পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়তে চাই এবং এটি সকলের জন্যই নিরাপদ। আর এই ক্ষেত্রে আমাদের সকলেরই এগিয়ে আসা উচিত।

সম্পাদনা- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান