১০ মার্চ রাঙামাটিতে পালিত হবে জাতীয় দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস

395

P....3

আলমগীর মানিক- ১ মার্চ ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি : প্রতিবছর ১০ই মার্চ জাতীয় দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস হিসেবে পালনের সরকারি সিদ্ধান্তের পর দিবসটি পালনে প্রস্তুতি সভা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বেলা এগারোটার সময় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এই সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মোস্তফা জামান। রাঙামাটি জেলার ত্রাণ কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদারের পরিচালনায় উক্ত প্রস্তুতি সভায় সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার চিত্ত রঞ্জন পাল, জেলা তথ্য অফিসার কৃপাময় চাকমা, কাউখালী উপজেলার নির্বাহী অফিসার আফিয়া আক্তার, রাঙামাটি চেম্বারের সচিব আবুল কাশেমসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও), রাঙামাটি পৌর মেয়রের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন অফিসের প্রতিনিধিবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, জলবায়ুর পরির্বতনজর্নিত কারণে দুর্যোগের সংখ্যা ও ভয়াবহতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় রাঙামাটি জেলা অন্যতম দুর্যোগ প্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। অত্র জেলায় অগ্নিকান্ড-পাহাড় ধ্বস ও বজ্রপাতের মতো দূর্যোগে আক্রান্ত হয় বেশি সংখ্যক মানুষ। এখানকার মানুষজনদেরকে সচেতন করে তুলতে নাপারলে এই দূর্যোগ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই আগামী ১০ই মার্চ জাতীয় দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবসটি পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে স্বাড়ম্বরপূর্ণভাবে পালন করা হবে। এছাড়া রাঙামাটি জেলায় দূর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় শীঘ্রই জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরনের পাশাপাশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদেরকে দূর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে সম্যক ধারনা প্রদানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দূর্যোগে করনীয় সম্পর্কে স্থানীয় জনসাধারণকে সচেতন করতে স্থানীয় পর্যায়ে নাটিকা প্রদর্শন ও মাইকিংয়ের সিদ্ধান্তও নেয়া হয় সভায়। এছাড়া জেলার তথ্য অফিসের মাধ্যমে ঘূর্নিঝড় মোকাবেলায় স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে তথ্যচিত্র প্রদর্শনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোস্তফা জামান বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি নিজেই লিফলেট লিখে সেটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করবেন। তিনি বলেন,আমাদের দেশটা গরীব দেশ, তাই বিভিন্ন আয়োজনের বরাদ্ধ থাকে অপ্রতুল; কিন্তু এই অপ্রতুল বরাদ্ধ যথাযথভাবে প্রয়োগ করলেও কিন্তু অনেক ভালো ভালো কাজ করা সম্ভব। কিন্তু আমাদের অনেকেই সামনে ব্যানার দিয়ে একটি ছবি তুলে পাঠিয়ে দিয়েই কর্মসূচী পালনের দায়সারা জবাব দিয়ে দেয়। এতে করে কাজের কাজতো কিছুই হয়না এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতো দূরের কথা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকেও বঞ্চিত হয় সাধারণ মানুষ।
 
পোস্ট করেনন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান