৮ দফা দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের মানববন্ধন: রাঙামাটির ত্রিদিব নগরের পরিবর্তে ‘মুজিবনগর’ নাম করণের দাবী

584

স্টাফ রিপোর্ট- ১৪ ডিসেম্বর ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি: মহান শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও বিজয় দিবসকে সামনে রেখে আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের ডাকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন তিন পার্বত্য জেলার জনপ্রতিনিধি, তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ইউপি মেম্বার, চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে গঠিত সমঅধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব, রাঙামাটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার জনাব মনিরুজ্জামান মনির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য গণপরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান এ্যাড. পারভেজ তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- পার্বত্য গণপরিষদের মহাসচিব এ্যাড. আলম খান, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ ভাষানীর চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ ভাষানী এবং খাগড়াছড়ি জেলা সমঅধিকার আন্দোলনের সভাপতি বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী এম আনোয়ারুল্লাহ।

সমঅধিকার নারী আন্দোলন ও সমঅধিকার ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচীতে ৯দফা দাবীনামা ও বিজয় দিবসের ৮ দফা দাবীনামার সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী ফেরদৌস মানিক, মারিয়া হোসেন মীম, পুষ্পা আক্তার রিক্তা, রোজিনা বেগম, সেলিনা আক্তার ও কাকলী চৌধুরী।

পাহাড়ে ৩৫ হাজার শহীদ বীর বাঙালিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং বাঙালি নেতা জালাল উদ্দিন চৌধুরী আলমগীর, এম জসিম উদ্দিন কবির, মোখলেছ ভূইয়া, মাওলানা শহিদুল্লাহ, রুহুল আমিন, বেলায়েত হোসেন ভূইয়া ও মুক্তিযোদ্ধা মশিউল আলম হুমায়ুন এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচীতে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন যুব ও সমাজসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সভাপতির ভাষনে জনাব মনিরুজ্জামান মনির বহুল বিতর্কিত পার্বত্য কালোচুক্তি ও ভূমি কমিশন আইন- ২০১৬ বাতিলের জোর দাবী জানান। তিনি রাঙামাটি জেলায় পাকিস্তানী দালাল চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের নামে ঘোষিত ত্রিদিব নগর পরিবর্তন করে মজিবনগর রাখার দাবী জানান।

তাছাড়া রাজাকার কমান্ডার বিজয় কেতন চাকমাসহ উপজাতীয় রাজাকার, মিলিশিয়াসহ শান্তি কমিটির দালালদের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আইনে বিচার করার জোর দাবী জানান। মানববন্ধনে নি¤েœাক্ত দাবীনামা পেশ করা হয়।

বিজয় দিবসের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের ৮ দফা দাবী নামা:

১। রাঙামাটি জেলা সদরে অবস্থিত পাকিস্তানী দালাল রাজাকার চাকমা চীফ ত্রিদিব রায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ত্রিদিবনগর বাতিল করে উক্ত স্থানের নাম মজিবনগর করতে হবে। রাজাকার কমান্ডার বিজয় কেতন চাকমাসহ উপজাতীয় রাজাকার/মিলিশিয়া/শান্তি কমিটির নেতাদের বিচার করতে হবে।

২। গত ২০ নভেম্বর ২০১৬ ঢাকায় ডিআর ইউতে সংবাদ সম্মেলন করে কতিপয় ইউপিডিএফ নেতা বিজয় দিবসের বিরুদ্ধে আপত্তিকর দেশদ্রোহী ও উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়েছে। তারা বিজয় দিবস পালন না করারও ঘোষনা দিয়েছে। যা অত্যন্ত আপত্তিকর। এর ফলে দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় বাংলাদেশ প্রেমীক উপজাতি ও বাঙালিরা দারুন নিরাপত্তা হীনতা ও আতংকে ভোগছে। অবিলম্বে ঐসব ইউপিডিএফ নেতাদেরকে আটক এবং বাঙালি উপজাতি জনগোষ্টির নিরাপত্তা প্রদানের জন্য প্রশাসনকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩। বিজয় দিবস কর্মসূচীতে বাধাদানকারী জেএসএস, ইউপিডিএফ, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ সহ উগ্র সাম্প্রদায়িক অস্ত্রধারী উপজাতীয় সন্ত্রাসীদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

৪। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সকল উপজাতীয় রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে বিজয় দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

৫। যেসব উপজাতীয় শিশু-কিশোর, অভিভাবক, শিল্পী, শিক্ষক-শিক্ষিকা যারা বিজয় দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তাদের জান মালের নিরাপত্তা সহ সর্বপ্রকার সহযোগিতা করতে হবে।

৬। সরকারের বেতনভোগী লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত প্রতিমন্ত্রীর ক্ষমতাধারী সন্তুুলারমাসহ সকল উপজাতীয় নেতাদেরকে বিজয় দিবসের যাবতীয় কর্মসূচীতে যোগদানে বাধ্য করতে হবে।

৭। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবসসহ বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো যাতে তিন পার্বত্য জেলার সকল উপজাতীয় নেতারাও সসম্মানে পালন করেন, সেই লক্ষ্যে সরকারী প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৮। পার্বত্য কালো চুক্তি ও বিতর্কিত ভূমি কমিশন আইন- ২০১৬ বাতিল সহ দেশ বিরোধী মিথ্যা বানোয়াট বিকৃত অপপ্রচারকারী উপজাতীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তথাকথিত জুম্মল্যান্ড নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সমূলে বিনাস করতে হবে।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথি এ্যাড. পারভেজ তালুকদার বলেন, পার্বত্য গণপরিষদের পেশকৃত দাবী দাওয়া বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাহাড়ে উপজাতি বাঙালি ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। পার্বত্যবাঙালিদেরকে রহিঙ্গাদের মত সন্তুুলারমাদের সন্ত্রাসীরা অত্যাচার করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনকে বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস পালনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং সরকারের বেতনভোগী সন্তুুলারমাদেরকে বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবসে যথাযোগ্য মর্যাদার মাধ্যমে অংশগ্রহণে বাধ্য করার জন্য তিনি সরকারের নিকট জোর দাবী জানান।

এক প্রশ্নের উত্তরে এ্যাড. পারভেজ তালুকদার বলেন, সরকার উদ্যোগ না নিলে তিন পার্বত্য জেলার মুক্তিযোদ্ধা-জনতা উদ্যোগে ২০১৭’র বিজয় দিবসের আগেই ৭১’রের যুদ্ধাপরাধী, পার্বত্য আঞ্চলীক রাজাকার কমান্ডার চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের মরনোত্তর প্রতীকি বিচার করা হবে।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো অফিস।