একক অভিনয় নিয়ে মঞ্চে আসছেন জেরিন কাশফী রুমা

58

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ঢাকা ব্যুরো অফিস- দৈনিক রাঙামাটি

মঞ্চ-টিভি নাট্যাভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী জেরিন কাশফী রুমা। সম্প্রতি ‘সুন্দরবন পর্যটন ক্লাব’ এর পক্ষ থেকে তিনি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। মঞ্চ নাটকের নিয়মিত দর্শকদের কাছে বেগম সাহেবা তথা মহাতারেমা হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। ‘মাই নেম ইজ গওহর জান’ নামক একটি মঞ্চ নাটকে একক অভিনয় করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুণি এই শিল্পীর একান্তে কথা বলেছেন, লেখক-সংস্কৃতিজন অপূর্ব কুমার কুন্ডু। তাদের সে আলাপচারিতার সারাংশ (সম্পাদনা-অনুলিখন) আমাদের অনলাইন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

আপনার মঞ্চে অভিনয়ে আসার নিয়ে বলুন। কি ভাবে যুক্ত হলেন মঞ্চ নাটকে ?

উত্তর : মঞ্চে আসাটা আমার একেবারেই ইচ্ছাকৃত ছিল না। কখনো ভাবিনি যে মঞ্চ নাটকের সঙ্গে যুক্ত হবো, এমন কোনো স্বপ্নও ছিল না। তবে অভিনয়কে ছোট বেলা থেকেই খুব ভালোবাসতাম, মনে মনে লালন করা একটি নেশা ছিল এটা।
আমার এক ছোট বোনের উৎসাহ বলা ভালে একটু জোর করেই আমি ‘সময় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ আয়োজিত ৪০ দিনের একটি ওয়ার্কশপে অংশ নিই। তাদের বাসায় আমার ভালো অবস্থান ছিল, তাই আমি যদি ওয়ার্কশপটি করি তাহলে ওর কোনো সমস্যা হবে না এই ভাবনা থেকেই অংশ নেওয়া। আর সেখান থেকেই আমার থিয়েটারে প্রবেশ। প্রথমে পথনাটক, তারপর মঞ্চনাটক, এভাবে একের পর এক নাটকে কাজ করেছি এবং এখনো করে যাচ্ছি। মঞ্চই আজ আমার সবচেয়ে বড় ভালোবাসার জায়গা হয়ে উঠেছে।

মঞ্চে উল্লেখ যোগ্য নাটকে আপনার অভিনীত চরিত্র ও চরিত্রায়ন নিয়ে বলার আছে ?

উত্তর : আমার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি মঞ্চনাটকের মধ্যে প্রথমেই বলতে হয় ময়মনসিংহ গীতিকা—আয়না বিবি অবলম্বনে মঞ্চায়িত ‘আসমান তারা শাড়ি’। এখানে আমি আয়না চরিত্রে অভিনয় করেছি। আয়না সম্ভব সুন্দরী, সহজ-সরল, প্রেমময় এবং স্বামী-নিষ্ঠ এক নারী, যিনি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস দিয়ে সংসার ধরে রাখেন। কিন্তু প্রতিদানে অবহেলাই পান। স্বামীর অনুতাপ ফিরে আসে অনেক দেরিতে, যখন আয়না পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছে।
এরপর মলিয়েরের তারতুফ অবলম্বনে ‘বাবা তারতুফ’ নাটকে আমি আলমারি চরিত্রে অভিনয় করি। এটি একটি কমেডি নাটক। আলমারি উচ্চবিত্ত, পরিপাটি, আকর্ষণীয় একজন নারী, যাকে পরিবার ভালোবাসে এবং সম্মান করে। কিন্তু স্বামী যখন এক ভন্ড পীরের ফাঁদে পড়ে সবকিছু বিপর্যস্ত করে ফেলে, তখন আলমারি সাহসিকতার সঙ্গে ভন্ডের মুখোশ খুলে দেয় এবং গল্পটি সুখান্ডে পৌঁছে যায়।
এরপর করেছি ‘বাজিমাত’ নাটক। এ নাটকে আমি ফুলবানু চরিত্রে অভিনয় করি সহজ-সরল শিক্ষিত এবং সত্যনিষ্ঠ এক গ্রামীণ মেয়ে। ফতোয়াবাজদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে প্রাণ হারানো পর্যন্ত তার দৃঢ় অবস্থান এই চরিত্রটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে তোলে।
তারপর ‘ভাগের মানুষ’ যা প্রায় দুই শতাধিকবার মঞ্চায়িত হয়েছে। এ নাটকটতে আমি লাইলী চরিত্রে অভিনয় করেছি। নাটকের প্রেক্ষাপট ১৯৪৭-এর দেশবিভাগ, স্থান লাহোরের পাগলা গারদ। পাগলদের মানবিক, মিলেমিশে থাকা এক দুনিয়া যখন হঠাৎ দেশভাগের নিয়মে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হতে থাকে, তখন তাদের আর্তনাদ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে প্রকাশ পায়। এই নাটকটি দেশ-বিদেশে মঞ্চস্থ হওয়ায় আমার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতারও সঞ্চার হয়।
এরপর ‘শেষ সংলাপ’ যা তৌফিক আল হাকিমের সুলতানুজ জান্নাম অবলম্বনে রচিত। এখানে একমাত্র নারী চরিত্র মহাতারেমা/বেগম সাহেবা আমি অভিনয় করি। তিনি অভিজাত, শিল্পমনা, বুদ্ধিমতী, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং প্রয়োজন হলে ক্ষমতার সামনে দাঁড়িয়ে যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম। চরিত্রটি আমার খুব প্রিয়।
সবশেষে ‘যযাতি’ গিরিশ কারনাডের রচনা অবলম্বনে নির্মিত নাটক, নির্দেশনা আকতারুজ্জামান। এখানে আমি দেবযানী চরিত্রে অভিনয় করেছি, লাস্যময়ী, প্রেমময়ী, আত্মসম্মানী একজন নারী। স্বামী যযাতির অবজ্ঞা ও দাসী শর্মিষ্ঠার প্রতি আকর্ষণ সহ্য করতে না পেরে প্রাসাদ ত্যাগ করা এবং পরবর্তী নাটকীয় পরিণতি চরিত্রটিকে গভীর ট্র্যাজিক মাত্রা দেয়। চরিত্রটি আমার জন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ।

আপনার টিভি নাটকে অভিনয়ে আসালেন কিভাবে ?

উত্তর : মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় করার কারণে সেখানে আমার পরিচিতসহ একটি অভিনয়জগৎ তৈরি হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই টিভি নাটকে অভিনয় করার সুযোগ পাই। ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে বেশ কিছু টিভি নাটকে কাজ করেছি। এরপর দীর্ঘদিন টিভি নাটক থেকে দূরে ছিলাম। মঞ্চ এবং নৃত্য নিয়ে ব্যস্ততার কারণে। বর্তমানে আবার নিয়মিতভাবে মিডিয়াতে কাজ করছি। টিভিতে ফেরা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত ইচ্ছা এবং অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই। এখন আমি মিডিয়ায় সক্রিয় হয়ে কাজ করছি।

আপনি মূলত  মঞ্চ অভিনেত্রী। তারপরও অনেক পথনাটক করেছেন, এ সম্পর্কে কিছু বলবেন ?

উত্তর : আমার নাট্যযাত্রা শুরুই হয়েছে পথনাটক দিয়ে। ৪০ দিনের ওয়ার্কশপ শেষে সময় সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিয়মিত পথনাটক করেছি। আমাদের গ্রপে প্রতি বছর পথনাটকের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজিত পথনাটক অনুষ্ঠানেও নিয়মিত অভিনয় করেছি। পথনাটকে যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে- তা হলো, নাটককে দর্শকের কাছে নিয়ে যাওয়া। আমরা জানতাম না আমাদের দর্শক কারা, রমনা পার্কে যাই, পথে দাঁড়িয়ে নাটক করি, আর দেখি যাত্রাপথে থাকা লোকেরা থেমে গেছে, অফিস ফেরত মানুষ দাঁড়িয়ে নাটক দেখছে। দর্শকের এতো কাছ থেকে, চোখের সামনে, তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া—হাসি, বিস্ময়, সংলাপ ধওে ফেলা এসব শুধুমাত্র পথনাটকেই সম্ভব। পথনাটক আমাকে শিখিয়েছে যে, দর্শকই নাটকের প্রাণ এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি মিশে যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা অভিনয় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি।

মঞ্চ নাটক নিয়ে আপনার বিশেষ স্মৃতি কি ?

উত্তর : মঞ্চ নাটক নিয়ে আমার স্মৃতির শেষই নেই। প্রতিটি মঞ্চে ওঠা, প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি আলো-অন্ধকারই আমার জন্য আরেকটি নতুন স্মৃতি। তবে মঞ্চ অভিনেত্রী হিসেবে শ্রীলঙ্কায় যে সম্মান পেয়েছি, তা ভুলবো না।
শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে গিয়ে আমার এক শুভাকাংক্ষীর মাধ্যমে পরিচয় হয় অভিনেতা, নির্দেশক, কলম্বো ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ফেস্টিভ্যালের পরিচালক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মেদ সাফির সঙ্গে। তিনি জানতে পারেন আমি বাংলাদেশের একজন মঞ্চ অভিনেত্রী এবং তখন শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছি। সংবাদ পেয়ে তিনি নিজে আমাকে ফোন করেন এবং তাদের একটি নাট্যোৎসবে নাটক দেখার আমন্ত্রণ জানান। পরদিন তিনি নিজেই হোটেলে এসে আমাকে নিয়ে যান। হোটেলের লবিতে বসে বাংলাদেশের নাটক ও শ্রীলঙ্কার থিয়েটার সম্পর্কে আমাদের দীর্ঘ আলাপ হয়। তারা প্রতিবছর একটি আন্তর্জাতিক থিয়েটার উৎসবের আয়োজন করেন, এবং সেখানে আমাকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। এই সম্মান, এই ভালোবাসা, মঞ্চ অভিনেত্রী হিসেবে আমার জন্য এক পরম প্রাপ্তি।

আপনাকে মঞ্চের বেগম সাহেবা বা মহাতারেমা বলা হয়। কেন ?

উত্তর : ‘মহাতারেমা’ আসলে আমার শেষ সংলাপ নাটকের একটি চরিত্র এবং আমার অভিনীত সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী চরিত্রগুলোর একটি। নাটকটিতে একমাত্র নারী চরিত্রই ছিল মহাতারেমা, যিনি সুশ্রী, ব্যক্তিত্বময়, শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক এবং একই সঙ্গে দয়ালু, যুক্তিবাদী, ত্যাগী ও দেশপ্রেমী এক নারী।
নিজের সঞ্চয় দিয়ে সুলতানকে কিনে এনে দেশের স্বার্থে তাকে মুক্ত করে দেওয়ার যে মহত্ত¡ব, সেটিই চরিত্রটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। এই চরিত্রে অভিনয়ের পর থেকেই দর্শক ও সহশিল্পীরা স্নেহ করে আমাকে ‘মহাতারেমা’ বা ‘বেগম সাহেবা’ নামে ডাকতে শুরু করেন, এটাই আমার জন্য বড় সম্মান।

অভিনয়ের পাশাপাশি নৃত্যেও আপনার বিশেষ দক্ষতা আছে। নৃত্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে আপনার বিদেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলুন ?

উত্তর : জি, নৃত্যের জন্য আমি জার্মানি, জাপান, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছি। প্রতিটি দেশের অভিজ্ঞতাই ভিন্ন এবং স্মরণী- যা এখনো গভীরভাবে মনে দাগ কেটে আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা ছিল জাপানের ওয়ার্ল্ড মিউজিক অ্যান্ড ডান্স ফেস্টিভ্যাল। সেখানে আমরা বন্দনা নৃত্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করি, এরপর পরিবেশন করি কাথক, সৃজনশীল নৃত্য, লোকনৃত্য এবং সর্বশেষ দেশপ্রেমভিত্তিক গীতিনৃত্যনাট্য। বহু দেশের শিল্পী ও দর্শকের সামনে আমাদের পরিবেশনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করছিলেন। আবেগের মুহূর্তটি ছিল শেষ দৃশ্যে যখন আমরা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করি, দর্শকদের সবাই দাঁড়িয়ে করতালিতে আমাদের সম্মান জানান। আমরা স্টেজ ছাড়ার আগ পর্যন্ত করতালি থামেনি। শিল্পী হিসেবে এ সম্মান, আমার জন্য সত্যিই এক বিশাল প্রাপ্তি।

মঞ্চ নাটকে আপনার প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তি ঠিক কেমন ?

উত্তর : মঞ্চ নাটকে আপনার প্রত্যাশা এমন কিছু চরিত্রকে জীবন্ত করা, যেগুলো বাস্তব জীবনে আমি কখনোই হতে পারব না, কিন্তু মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে তা সম্ভব। বাস্তবে আমি রানী বা রাজকন্যা নই, কিন্তু অভিনয়ের মাধ্যমে আমি হয়েছি রানী দেবযানী, হয়েছি মহাতারেমা, আবার কখনো হয়েছি গ্রামের সহজ-সরল মেয়ে আয়না। মঞ্চ আমাকে এই বৈচিত্র্যময় চরিত্রগুলোতে বাঁচার স্বাধীনতা দিয়েছে। তাই বলতে পারি, যেসব চরিত্রে নিজেকে দেখতে চেয়েছি, মঞ্চ সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে, আর এই চরিত্রগুলোই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার ভাবনা কি ?

উত্তর : বিশালতায় ঘেরা একটি শিল্পভুবন চলচ্চিত্র। যেখানে নিজেকে নতুন ভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ আছে। বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করার যে অভিজ্ঞতা আছে, তা আমাকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যও আত্মবিশ্বাসি করে। চলচ্চিত্রে কাজ করারও সুযোগ আমার রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো গল্প ও চরিত্র। যদি মনে হয় চরিত্রটির ভেতর দিয়ে সত্যিকারের অভিব্যক্তি তুলে ধরতে পারব তাহলে অবশ্যই সেই গল্পের চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই।

খুব শীঘ্রই দর্শকরা আপাকে একক অভিনয়ের মঞ্চে দেখবেন। সে সম্পর্কে বলুন ?

উত্তর : হ্যাঁ, ‘মাই নেম ইজ গওহর জান’ নামক একটি নাটকে আমি একক অভিনয় নিয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থিত হতে যাচ্ছি। আমার কাছে এটি শুধু একটি নাটক নয়, একজন কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পীর জীবনযাত্রা, তার আলো-অন্ধকার, জয়-পরাজয়ের এক গভীর আত্মকথা। গরহর জান একজন শিক্ষিত নারী। সংস্কৃতি চর্চায় নৃত্যে অভিজ্ঞ এবং প্রজ্ঞাবান ছিলেন। তার জীবনে খ্যাতির উজ্জ্বলতা আর প্রেম-জৌলুশের পাশাপাশি অপ্রাপ্তির শূন্যতা, অপমান, সংগ্রাম এবং নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার অবিরাম লড়াইও ছিলো। তার এই বহুমাত্রিক জীবনকে একা মঞ্চে ধারণ করাটাই আমার বড় চ্যালেঞ্জ এবং বড় আকাংক্ষা। এই নাটকে সেট, কস্টিউম, সংগীত, প্রপস, প্রতিটি উপাদানই যেন গওহর জানের সময়, তার পরিবেশ ও আবেগের সঙ্গে যুক্ত। সবকিছুর সমন্বয় করার জন্য আমি এবং আমাদের পুরো টিম অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে কাজ করছি। একক অভিনয় বলে দায়িত্বটা আরও বেশী। গওহর জানের হাসি, কান্না, শিল্পীসত্তা, দুঃখ, অহং, আত্মসম্মান, সবকিছু আমাকে নিজের শরীর ও কণ্ঠ দিয়ে বহন করতে হবে। তাই প্রস্তুতিটাও গভীর। আমি যেন শুধু অভিনয় না করি, গওহর জান যেন সত্যিই আমার মধ্যে বাস করে। সময় একটু লাগছে, কারণ আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি চাই, যখন মঞ্চে উঠব, দর্শক যেন গওহর জানকে দেখতে পান, আমাকে নয়। আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় খুব শিগগিরই নাটকটি মঞ্চে তুলে আনা। আমি প্রতিদিনই সেই স্বপ্নটিকে আরেকটু বাস্তব করার চেষ্টা করছি।

সাংস্কৃতিক অঙ্গণের একজন গুণিশিল্পী হিসেবে মঞ্চ-টিভি নাট্যাভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী জেরিন কাশফী রুমা অনেক সংগঠন থেকে সম্মাননা পেয়েছেন। তার মধ্যে গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ ঢাকার বিশ^সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘সুন্দরবন পর্যটন ক্লাব’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া, ২০২৫ সালে, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, কলের গান অ্যাওয়ার্ড, টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্রাব)-অ্যাওয়ার্ড, সামাজিক সাংস্কৃতক ফাউন্ডেশন (সাসাফ)- অ্যাওয়ার্ড, ‘ওই সুন্দরে আনন্দপুরে’ এর জন্য অন্তর্জাতিক পুরস্কার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সম্পাদনা-অনুলিখন ও অনলাইন আপলোড- শামিমুল আহসান
ঢাকা ব্যুরো প্রধান- দৈনিক রাঙামাটি