॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় এবার কারাগারে গেলো ইমতিয়াজ ইমন ও তার বন্ধু সাখাওয়াৎ। সাংবাদিক আলমগীর মানিকের দায়ের করা মামলায় অন্তবর্তি জামিনে থাকা ইমন ও তার বন্ধু সাখাওয়াৎ সোমবার (১০ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এস কে এম তোফায়েল হাসান এর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন জানালে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি এডভোকেট মঞ্জুরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বাদী পক্ষের কৌসুলী এডভোকেট গোলাম মওলা মুরাদ জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের রাঙামাটি প্রতিনিধি নারী সাংবাদিক জাহেদা কামালসহ রাঙামাটি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে‘ অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করার প্রেক্ষিতে সংক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিক আলমগীর মানিক রাঙামাটি পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের রিজার্ভ বাজার পাথরঘাটা এলাকার তাইফুর রহমান প্রকাশ আক্তার হোসেনের ছেলে ও অবজারভার পত্রিকার প্রতিনিধি শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন (২১) এবং তার বন্ধু একই এলাকার কালু ড্রাইভারের ছেলে শাখাওয়াত হোসেন (২০) এর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২০ সেপ্টেম্বর’২০২১ রাঙামাটির কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। (কোতয়ালি থানার এফআইআর নং- ১৩/১৬৩, ডিআর মামলা নং ৪০৮/২১)।
এডভোকেট গোলাম মওলা মুরাদ জানান, মামলার তথ্যমতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রয়াত সাংবাদিক মোস্তফা কামাল এর স্ত্রী সাংবাদিক জাহেদা কামাল এবং দৈনিক মানব জমিন ও এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আলমগীর মানিকসহ রাঙামাটি প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে জড়িয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে অশ্লীল, করুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য পোস্ট করে ইমতিয়াজ ইমন প্রকাশ শেখ ইমতিয়াজ কামাল ইমন। সেই পোস্টটি শাখাওয়াত হোসেন নিজের ওয়ালে শেয়ার করে একইভাবে বিরূপ মন্তব্য করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়। এমন অভিযোগে সংক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিক আলমগীর মানিক উল্লেখিত এফআইর দাখিল করেন।
উক্ত মামলায় উচ্চ আদালত হতে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নেয় ইমন ও শাখাওয়াত। আগাম জামিনে থাকা অবস্থায় তারা আবারও ফেসবুকে নানা প্রপাগান্ডা ছড়ায় বলে মন্তব্য করেন কৌসুলী। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগাম জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করে তারা। বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের কৌসুলীদের বক্তব্য শুনে তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।