তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ‘সিএইচটি মিডিয়া টোয়েন্টিফোর ডটকম’ এর মালিক স্বঘোষিত সাংবাদিক নির্মল বড়ুয়া মিলনকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
তার নিজের পরিচালনাধীন অননুমোদিত অনলাইন পোর্টালে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গত ২৪ জানুয়ারি রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
বুধবার তিনি রাঙামাটির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে আবেদন নামঞ্জুর করে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
রাঙামাটি কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আজিজুল হক নির্মল বড়ুয়াকে আটক করে জেলা হাজতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই মামলায় নির্মল বড়–য়া হাইকোর্ট হতে ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন।
বুধবার ওই জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি নি¤œ আদালতে বুধবার জামিন চাইতে আসেন। হাইকোর্টের আগাম জামিনের নথিপত্র নিয়ে তিনি রাঙামাটির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সামস্উদ্দিন খালেদের আদালতে আবেদন জানান। শুনানীর পর আদলত তার আবেদন না মঞ্জুর করলে তাকে আটক করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জানুয়ারি রাঙামাটির কোতোয়ালি থানায় র্নিমল বড়ুয়া মিলনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) ধারায় রাঙামাটি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান মহসীন রোমান বাদী হয়ে মামলা করেন (নম্বর-১১, তারিখ-২৪/০১/২০১৭)। এদিকে র্নিমল বড়–য়ার বিরুদ্ধে একই অভিযোগে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় আরেকটি মামলা রুজু করেছেন রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল।
এদিকে নির্মল বড়–য়ার প্রতিবেশী কয়েকজন হাসপাতাল ষ্টাফ জানান, আমাদের জানামতে নির্মল বড়–য়ার তেমন কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, অল্প কিছুদিন আগে হঠাৎ জানতে পারলাম নির্মল বড়ুয়া সাংবাদিক হয়ে গেছে। আমরা অবাক হয়ে দেখলাম তিনি অনলাইন সাংবাদিক হয়েছেন এবং একটি অনলাইন প্রেসক্লাবও বানিয়েছেন।
অনেক পেশা পরিবর্তনের পর নির্মল বড়ুয়া সাংবাদিক সাজার পর থেকে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তবে আমরা নিজেদের মান ইজ্জতের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পাই না।