প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চ

573

timthumb.php
ঢাকা ব্যুরো অফিস, ২১ নভেম্বর ২০১৫, দৈনিক রাঙামাটি : ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে বলে একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে! ইতিমধ্যে দুই পরিবারের সদস্যরা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেছেন। তাদেরকে কারাগারের ভেতরের ওয়েটিং রুমে রাখা হয়েছে।

এদিকে এ রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মঞ্চে আলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ছামিয়ানা টানানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে জল্লাদও। এছাড়া কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে। আজ শনিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কারাগারের একটি বিশেষ সূত্র।

জানা যায়, ফাঁসির মঞ্চের লাইট এবং সামিয়ানা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সঙ্গে গেছে মই ও চোঙা। অপরদিকে ফাঁসি কার্যকরে সাতজন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তারা প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছেন। তারাই মূলত ফাঁসির আগে-পরে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। এই ৭জন হলেন, জল্লাদ আবুল, হজরত, মাসুদ, ইকবাল, রাজু, শাহজাহান ও মুক্তার। সাতজন জল্লাদ ফাঁসি কার্যকর থেকে শুরু করে তার আগে মঞ্চে নিয়ে যাওয়া, মরদেহ ওঠানোর মতো সব কাজ করবেন।

অন্যদিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ এম্বুলেন্স। মানবতাবিরোধী অপরাধে আরও দু’টি ফাঁসির মতোই এবারও প্রস্তুত অ্যাম্বুলেন্স। কারাগার এলাকায় ৩ স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগে থেকেই কারা এলাকায় নিরাপত্তা ছিল জোরদার, তবে বিকেল থেকে আরও বাড়ানো হয়েছে বলে বাংলানিউজকে বিষয়টি জানিয়েছেন লালবাগ জোনের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মফিজউদ্দিন আহমেদ। তিনি শনিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে জানান, হঠাৎ করেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যদিও আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু এখন তা তিন স্তরে আনা হয়েছে। এছাড়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সব ধরনের যান চলাচলও।

মূলত রাষ্ট্রপতির কাছে সালাউদ্দিন কাদের ও মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হলেও ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাতেই ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রাণভিক্ষার আবেদনের আইনি বিষয়ে মতামত দিয়ে তা বঙ্গভবনে পাঠিয়ে দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার ওপরই নির্ভর করছে ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি।

শনিবার সকাল থেকেই নাজিমউদ্দিন রোডে কারাগারের সামনে র্যাব-পুলিশের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিকালের দিকে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিকেল ৪টার আগে শুধু র্যাব সদস্যদের সশস্ত্র পাহারায় দেখা গেলেও সন্ধ্যার আগে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

কারা ফটকের আশপাশে গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া কাউকে যাওয়া-আসা করতে দিচ্ছে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সাংবাদিকদেরও পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। দক্ষিণপূর্ব পাশ দিয়ে কারাগার সংলগ্ন সড়কে যান চলাচল সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। সন্ধ্যার পর নাজিমউদ্দিন রোডেও যানবাহন চলাচল সীমিত করে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং সাম্প্রদায়িক হত্যা-নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তিনি আপিল করলে চলতি বছরের ১৬ জুন চূড়ান্ত রায়েও ওই সাজা বহাল থাকে। একাত্তরে চট্টগ্রামের ত্রাস সালাউদ্দিন কাদেরের রায় এসেছিল ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর। ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় এ বছর ২৯ জুলাই আপিলের রায়েও বহাল থাকে। তাদের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় একই দিনে, ৩০ সেপ্টেম্বর। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল দুজনের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে এবং কারা কর্তৃপক্ষ ১ অক্টোবর তা দুই ফাঁসির আসামিকে পড়ে শোনায়। এরপর দুই যুদ্ধাপরাধী ওই রায়

পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বুধবার আদালত তা খারিজ করে দেয়। আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শেষে রিভিউ খারিজের রায় বৃহস্পতিবার কারাগারে পৌঁছে যাওয়ার পর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় এই দুই নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা নেই।

শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান, সূত্র- অন্য মিডিয়া