ফ্যাসিষ্ট দোসর ও ভূমি দস্যুদের হাতে বেদখল সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন

22

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণের পায়তারা ও এলাকার সচেতন মানুষকে নানাভাবে হুমকি ধামকি প্রদানের প্রতিবাদে মনববন্ধন করেছে রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার ও ২নং পাথরঘাটার অধিবাসীরা। মানববন্ধন থেকে দখলকারীদের ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও ভূমি দস্যু হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তাদের সরকারি জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে জাতীয় সম্পত্তি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং সড়ক বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মানববন্ধন থেকে দাবি করা হয়, বিগত ৬০ বছরেরও অধিক সময় ধরে সকলের কাছে সওজ স্টাফ কোয়ার্টার (সিএন্ডবি কলোনী) হিসেবে পরিচিত এই সরকারি সম্পত্তিটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং পেশি শক্তির জোরে দখল করে নেয় প্রয়াত যুবলীগ নেত্রী রেজিয়া বেগম। কিন্তু রেজিয়ার মৃত্যুর পরও তারা সরকারি ওই স্থাপনাটি দখলে রেখে দেয়। বর্তমানে তারা সরকারি স্থাপনাটি ভেঙ্গে নিজেরাই ভবন তৈরীর পায়তারা করছে।

এলাকাবাসী জানায়, সড়ক বিভাগের ওই স্থাপনাটি অবৈধভাবে দখলে রাখার বিষয়ে স্থানীয়রা খোঁজ খবর নিতে গেলে রেজিয়ার ছেলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ভূমি দস্যু নুরুদ্দিন ও দুলাভাই নুর হোসেন গং এ বিষয়ে তাদের নিকট হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে বলে দাবি করে আসছিল। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন যে, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের ভয়ে সে সময় এলাকার মানুষ মুখ খুলতে পারতো না। তারা আশা করেছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সরকারি স্থাপনাটি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সড়ক বিভাগ তৎপর হবে। কিন্তু দু:খের বিষয় যে, রহস্যজনক কারণে সড়ক বিভাগ তাদের সম্পত্তি উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। এই সুযোগে ভূমি দস্যুরা সিএন্ডবি কলোনীর মাঝখানে অবস্থিত ওই ঘরে নানা ধরণের মাদকে আড্ডা জমিয়ে বসে।  তারপরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা ওই জায়গায় নিজেদের স্থপনা নির্মাণের পায়তারা করছে। অথচ ওই ঘরে চারদিকে সড়ক বিভাগের স্থাপনাগুলি এখনও বিদ্যমান এবং কলোনীর ভিতর থেকেই তারা নানা অসামাজিক কাজের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের পরিবার পরিজনকে নানাভাবে বিব্রত করা ছাড়াও এলাকার পরিবেশ বিষময় করে তুলছে।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে এবিষয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ কামনা করেছে এলাকাবাসী। একই সাথে ফ্যাসিষ্ট দোসর ভূমি দস্যুদের হাত থেকে এলাকার পরিবেশ রক্ষার দাবি জানিয়েছে তারা। মানবন্ধরে এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেয় এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফেস্টুন প্রদর্শন করে।

এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের সাথে যোগযোগ করলে জানা যায়, ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের পরপরই ওই এলাকায় সওজ স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ করে সরকার। সেই থেকে সেখানে সরকারি কর্মচারীরা বসবাস করে আসছে এবং অসংখ্যবার সরকারি টাকায় স্থাপনাগুলো মেরামত করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের পাহাড় ধসের সময় কয়েকটি স্থপনা কিছুটা ভাঙ্গনের শিকার ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় কয়েকটি কোয়ার্টার থেকে সরকারি কর্মচারীরা অন্যত্র আশ্রয় নেয়। এই সুযোগে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে গায়ের জোরে একটি খালি কোয়ার্টারে উঠে পড়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেত্রী রেজিয়ার পরিবার। তখন সওজ কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে যোগাযোগ করলে ক্ষমতাসীনদের কয়েকজন নেতা সুপারিশ করে যে, তাদের বসবাসের জায়গা না থাকায় কিছুদিন থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্য। পরে তারা এক পর্যায়ে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে হাইকোর্ট থেকে ওই জায়গায় স্থিত অবস্থা বজায় রাখার একটি আদেশ নিয়ে আসে।

সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই তারা হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে জবরদখলকারীরা স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিলে সড়ক বিভাগ থেকে বিষয়টি পুলিশ জানানো হয়। গত ১৫ দিনে কয়েকবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হাইকোর্টে নির্দেশ অমান্য না করা এবং সরকারি সম্পত্তিতে হাত না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে এলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নুরুদ্দিন, নুরহোসেন, নিলা ও মিলা গং রাতের আঁধারে বেআইনীভাবে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রাখে। এতে এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের প্রতিরোধ করতে গেলে অবৈধ দখলদাররা তাদের উপর চড়াও হয় এবং দেশীয় অস্ত্রস্বস্ত্র নিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করে।

আক্রমণের শিকার হয়ে এলাকাবাসী মানবন্ধন করেছে, এর সাথে সড়ক বিভাগের কোনো সম্পর্ক নেই। এলাকাবাসীর দাবী করেছে রেজিয়ার জামাতা রাইটার নুর হোসেন নিজেকে উকিল বলে পরিচয় দিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।