স্টাফ রিপোর্টার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি : বৌদ্ধরতœ নন্দপাল মহাস্থবির বলেছেন- বুদ্ধ ধর্ম শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে সারাবিশ্বে স্বীকৃত। ইসলাম, খ্রীস্টান সকলেই বুদ্ধ ধর্মকে এই স্বীকৃতি দিয়েছেন। কেন দিয়েছেন? কারণ বুদ্ধ ধর্মে হত্যা নেই। রক্তপাত নেই। হিংসা নেই। হানাহানি নেই। সকল প্রাণীর প্রতি সদয় হওয়ার জন্য তথাগত বুদ্ধ শিক্ষা দিয়েছেন। বুদ্ধের অহিংসা মৈত্রীর ধর্ম তাই আজ সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কার্যকলাপ আমাদের লজ্জিত করে। এই অঞ্চলের বৌদ্ধদের অবৌদ্ধসুলভ আচরণ আমাদের লজ্জায় ফেলে দেয়। এখানে প্রতিনিয়ত হত্যা, রক্তপাত, হিংসা হানাহানি চলে। হত্যা, সংঘাত সংঘর্ষে জর্জরিত এখানকার মানুষ।
সবাইকে এই হত্যা, হানাহানি সংঘাত, সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকা উচিত। সকলকে বুদ্ধের অহিংসা নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে প্রাণী হত্যা, চুরি ব্যাভিচার, মিথ্যা-বৃথা কটু ভেদ-বাক্য থেকে বিরত এবং নেশাপান থেকে বিরত থেকে পঞ্চশীল পালন করতে হবে। বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের শুকরছড়ি ধর্মরতœ বৌদ্ধ বিহারে সোমবার আয়োজিত পুন্যানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সদ্ধর্ম দেশনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সোমবার সকালে প্রথমে ভিক্ষুসংঘকে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ধর্মরতœ বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শান্তি রাম চাকমা, প্রবীর চাকমা, বোধিসত্ত্ব চাকমা। পরে পঞ্চশীল প্রার্থনা ও দানোৎসর্গ করা করা হয়। অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন শুকরছড়ি গ্রামের মুরুব্বী রাজচন্দ্র চাকমা। বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সনত্ত কুমার চাকমা সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো ধর্ম দেশনা দেন সুবলংয়ের শ্রাবস্তী বন বিহার অধ্যক্ষ সংঘসার স্থবির। বক্তব্য রাখেন যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিহারী চাকমা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বড় হাজাছড়া গ্রামের কার্বারী লালন চন্দ্র চাকমা, স্থানীয় মুরুব্বী জনার্ধন চাকমা, পরিমল চাকমা, বুদ্ধচন্দ্র চাকমা, বীর কুমার চাকমা, প্রদুন্ন চাকমাসহ গ্রামের মুরুব্বী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সদ্ধর্ম্ম দেশনায় বনভান্তের প্রধান শিষ্য নন্দপাল মহাস্থবির, আরো বলেন বুদ্ধ ধর্মের দৃষ্টিতে কোন মানুষই তুচ্ছ নয়। নারী বলে কাউকে তুচ্ছ ভাবাটাও ঠিক নয়। নারীরাও বুদ্ধ ধর্মে বিশাল ভুমিকা পালন করতে পারেন। নারী-পুরুষ সকলেই বুদ্ধ শাসনে সমান অবদান রাখেন। বুদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে তার প্রমাণ রয়েছে। বুদ্ধের সময়কালে বিশাখা বুদ্ধ ধর্ম প্রসারে যে অবদান রেখেছিলেন তা হাজার বছর পর আজও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা প্রত্যেক বছর মহা উপাসিকা বিশাখাকে স্মরণ করেন। মগধ রাজ বিম্বিসার, রাজা প্রসেনজিৎ, শ্রেষ্ঠী অনাথ পিন্ডিক প্রত্যেকে বুদ্ধ শাসনে অসামান্য অবদান রেখে নিজেদের বিকশিত ও প্রস্ফুটিত করে গিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে সুবলং ইউনিয়ন ও বন্দুকভাঙ্গার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত পুণ্যার্থী অংশ নেয়। বিকালে শুকরছড়ি গ্রামের নারী সমাজের উদ্যোগে অষ্ট পরিষ্কার দান ও পরিত্রাণ শ্রবণ করা হয়। গ্রামে সকল প্রকার অমঙ্গল, অন্তরায় ও উপদ্রব দুরীভুত হয়ে উন্নতি শ্রীবৃদ্ধি ও শান্তি বিরাজের কামনা জানিয়ে ভিক্ষুসংঘ মঙ্গলসুত্র পাঠ করেন।
পোস্ট করেনন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান