২০ নভেম্বর ২০২২, ঢাকা ব্যুরো অফিস, দৈনিক রাঙামাটি।
স্টাফ রিপোর্ট : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ‘বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ’ ইতিপূর্বেই দীর্ঘ ৫৩ বছর পার করেছে। ১৯৬৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে ‘বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ’ আগামী ২৬ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৬তম জাতীয় সম্মেলন-২০২২, অনুষ্ঠিত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা এ সম্মেলনের প্রধান অতিথি থাকবেন।
২৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে মহিলা নেত্রীদের বড় পদ পেতে দৌড়ঝাঁপও ততই বাড়ছে। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ কে পাবেন তা নিয়ে আলোচনাও জোরদার হচ্ছে। নানান কারণে আগের কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে। তাই বড় দুটি পদে নতুন নেতৃত্বের ডামা-ঢোল বাচ্ছে জোরে সোরে। সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী প্রায় দুই ডজনের মত নেত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন, মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিরিন নাঈম পুনম, আসমা জেরিন ঝুমু (সাবেক সাংসদ), বনশ্রী বিশ্বাস স্মৃতি কনা, নাসিমা ফেরদৌসী, আলেয়া পারভীন রঞ্জু, পিনু খান (সাবেক সাংসদ), ইয়াসমিন হোসেন, আজিজা খানম কেয়া, ফারহানা ডলি এবং বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক সভাপতি পদ পেতে চান।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের মধ্যে মহিলা আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরিন রুকসানা, শিখা চক্রবর্তী, নাজমা হোসেন, জান্নাত আরা হেনরী, কামরুন্নেসা মানান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনারকলি পুতুল, সুলতানা রাজিয়া পান্না, ঝর্ণা বাড়ৈ, দপ্তর সম্পাদক রোজিনা নাসরিন রোজী আলোচনায় রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের তালিকার শীর্ষে।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী মহিলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রোজিনা নাসরিন রোজী মিডিয়া কর্মীদের বলেছেন, মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। গত শুক্রবার আমাদের মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত করার জন্য যার যার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
এক প্রশ্নের জবাবে দপ্তর সম্পাদক রোজিনা নাসরিন রোজী জানান, ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পিরোজপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত অ্যাড. সুধাংশু শেখর হালদারের নির্বাচনী প্রচারণার অংশগ্রহণ করেছেন। তার আগে কলেজ জীবনে স্বরুপকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক, ১৯৯৭ সালে কুয়েত-মৈত্রী হলের সভাপতি, ১৯৯৯ সালে সমাজ-কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন। এরপর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটি এবং ২০১৭ সাল থেকে মহিলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দলের দুঃসময়ে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তার দাবী কখনো রাজনীতির মাঠ ছেড়ে তিনি ঘরে থাকেননি। আগামী দিনেও দলের সুখ দ:খের সাথী হয়ে কাজ করতে চান। তাই তিনি আশা করেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা তার মতো দুর্দিনের কর্মীদের মূল্যায়ন করবেন।
সম্পাদনা ও আপলোড- শামীমুল আহসান
ঢাকা ব্যুরো প্রধান, দৈনিক রাঙামাটি।