রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সদস্যদের সাথে বিদায়ী জেলা প্রশাসকের শুভেচ্ছা বিনিময়

437

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেছেন, বোকারাই অন্যের সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে এবং অন্যের সমালোচনা করে। আর যারা বুদ্ধিমান মানুষ, তারা নিজের দায়িত্বের প্রতি সচেতন থেকে কাজ করে যায়। তিনি বলেন, বোকারা অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা চালাতে গিয়ে একসময় নিজেই নিজের ক্ষতি করে বসে। আমি মনে করি প্রতিটি মানুষের উচিৎ আপন আপন ক্ষেত্রে তার দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করে যাওয়া। ভালো কাজ করলে তার স্বীকৃতি আসবেই; বলে যোগ করেন জেলাপ্রশাসক।

মঙ্গলবার বিকেলে রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সদস্যদের সাথে বিদায়ী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ডিসি মামুনুর রশিদ তার বক্তব্যে এ কথা বলেন। এ সময় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলাপ্রাশসকের জন্য এক সংক্ষিপ্ত বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক এর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক একেএম মকছুদ আহম্মদ, সহ-সভাপতি অলি আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলী, প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য সৈয়দ মাহাবুব আহামদ। এসময় ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস, যুগ্ম সম্পাদক সুপ্রিয় চাকমা এবং অর্থ সম্পাদক পুলক চক্রবর্তীসহ প্রেসক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হিসেবে নয়, দীর্ঘ সময় রাঙামাটিতে দায়িত্ব পালনকালে জেলাপ্রশাসক সাধারণ মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থেকে দরদি মানুষ হিসেবে; একজন মানবিক অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দুর্যেগে দুর্ভোগে তিনি সবার মন জয় করে নিয়েছেন। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষের ঘরে খাবার পৌছে দেয়া, সপ্তাহে প্রতি বুধবার গণশুণানি করা, গরীব অসহায় দু:স্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিজের হাত বাড়িয়ে দেয়াসহ নানা কারণে তিনি মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছেন। বক্তরা জেলাপ্রশাসক আরো যশ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এসে তাঁর জন্য সংবর্ধনার আয়োজন দেখে আপ্লুত হন জেলাপ্রশাসক। তিনি বলেন, আপনারা যেভাবে বললেন, সব ক্ষেত্রে হয়তো আমি অতটা করতে পারিনি; কিন্তু জাতির সেবক হিসেবে আমি সব সময় নিজের দায়িত্বের চেয়ে আরো কিছু বেশি করার চেষ্টা করেছি। তাই আজ মনে হচ্ছে রাঙামাটির মানুষের জন্য আরো অনেক কিছু করার ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমি আমার চেয়ারে থেকে কখনও কোনো মানব সন্তানের ক্ষতি করার চেষ্টা করিনি, না আমার কথায় বা কলমে। তিনি সকলের দোয়া কমানা করেন।

আলোচনা সভার শুরুতেই প্রেসক্লাবের সদস্যরা জেলাপ্রশসক ফুলদিয়ে শুভেচ্ছা জানানো পর উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানীত করে। বক্তব্য শেষে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।