॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥
শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে জন্য আন্দোলনের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোনো বিষয়ে সমস্যা অনভূত হলে আলোচনার টেবিল খোলা আছে, আলোচনায় বসুন। আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে।
তিনি বলেন মনে রাখবেন, যারা শান্তির জন্য চুক্তি করেছে তারাই সেটা বাস্তবায়ন করবে। মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশী হতে পারে না। মন্ত্রী পার্বত্য ভূমি কমিশনের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, দেখুন ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই সরকারের আমলেই ভূমি সমস্যার সমাধানসহ চুক্তির সকল প্রকিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বুধবার রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গনে জেলা আওয়ামী লীগের গণসংবর্ধনা ও কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন।
সেতু মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভাট, ইন্টারনেটসহ পাহাড়ে উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে তার সবটুকু আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান।
মন্ত্রী সন্তু লারমা-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, পাহাড়ের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই সরকার আপনাদের সাথে শান্তি চুক্তি করেছিল। আপনি অস্ত্র ছেড়ে চুক্তি করার কারণে মানুষ আজ পাহাড়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। আর এ চুক্তির ফলে আপনার গাড়িতে স্বাধীন দেশের পতাকা ঠাঁই পাচ্ছে। তাই পাহাড়ে শান্তিতে বসবাস করতে হলে অবৈধ অস্ত্র থেকে বেরিয়ে আসুন। আলোচনা করুন, প্রধানমন্ত্রীকে জানান, আমি চুক্তির সময় দুর্গম পাহাড়ে আপনার সাথী হয়েছিলাম, আজ আমি সাধারণ সম্পাদক হয়েছি, আমাকে জানান। আলোচনার মাধ্যমে আমরা সব সমস্যার সমাধান করতে পারবো।
মন্ত্রী এসম দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সংবর্ধনা কোনো দলীয় কাজ নয়। এর মাধ্যমে টটাকা খরচ না করে সেটা দিয়ে গরীবদের সাহায্য করুন। গণসংবর্ধনা নয় বরং গণ সংযোগ করুন। জনগণকে ভালবাসুন, তাদের কাছে যান, তাদের পাশে দাঁড়ান। জনগণের কল্যাণ করতে পারলে তারা আমাদের মূল্যায়ন করবে। আমি মাত্র দায়িত্ব নিয়েছি, সামনে বিশাল পথ পাড়ি দিতে হবে, এখনো অনেক কাজ বাকি। কাজের শেষে ভালো করলে তখন সংবর্ধনা নেব।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং দলের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বরের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমসহ দলটির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ।