অচীরেই রাউজান থেকে রাঙামাটি পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ করা হবে: পরিষদ চেয়ারম্যানের সংবর্ধনায় দীপংকর তালুকদার এমপি

107

॥ মোঃ ওমর ফারুক ॥

কাউখালীতে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দীপংকর তালুকদার এমপি এ সময় তার বক্তব্যে সুখবর দিয়ে বলেছেন, অচীরেই রাউজান থেকে রাঙামাটি পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ করা হবে। বিষয়টি সম্প্রতি সংসদীয় কমিটির সভায় তিনি উপস্থাপন করেছেন। এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ের স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু একটি মহল শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নকে বাধা গ্রস্থ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তিনি বলেন, এই অপশক্তিকে রুখে দিয়ে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পাহাড়ের উন্নয়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এমপি এ সময়, উল্লেখ করেন যে, অনেকেই আশঙ্কা করছেন পাহাড়ি সড়কে কিভাবে চার লেন নির্মিত হবে, সে সমাধানও আমরা নিয়ে রেখেছি। কাপ্তাই হ্রদ ড্রেজিং করে পলি অপসারণ করে সেগুলো সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। কাপ্তাই হ্রদ ড্রেজিংয়ের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে।

শনিবার কাউখালী উপজেলায় রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যা শামসুদ্দোহা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় রাঙামাটি জেলা পরিসদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজা, রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য হাজী মোঃমুছা মাতব্বর, রাঙামাট্ িজেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া, জেলা পরিষদের অন্যান্য সদস্য সহ অন্যান্য নেতাকর্মী ও কাউখালী উপজেলার আওয়ামীলীগে ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পাহাড়ের প্রতিটি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করে এমপি বলেন, আমরা ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হই। তাই বলে শুধু ৫ বছরের জন্যই আমরা চিন্তা করি তা না। নৌকা আছে, আমি আছি, আওয়ামী লীগ আছে, উন্নয়ন আছে। আমার চিন্তা করি সুদূর প্রসারী উন্নয়নের। এসরকারের আমলে পালটে যাবে কাউখালী উপজেলার চিত্র। যদি কেউ এই আগামী ৩ বছর বাহিরে থাকে তবে ৩ বছর পর কাউখালী আর চিনতে পারবে না।

জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের অনেক দায়িত্ব, রাঙামাটি পুরো জেলাকে সমানভাবে উন্নয়ন করতে হবে। কেউ যাতে বলতে না পারে জেলা পরিষদ দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছে। কেউ যাতে বলতে না পারে এখানে চাকরির জন্য টাকা লাগে। টাকা নাই তো চাকরি নাই। এমন কিছু শুনলে বা জানতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সব কিছু সঠিকভাবে করতে হবে, মেধাবিরা যাতে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কাউখালী উপজেলা সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত হন সংবর্ধিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য ও রাঙামাটির সাংসদ দীপকংকর তালুকদার এমপি। শেষে এলজিএসপি এর অর্থায়নে কাউখালী উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন পরিষদে কম্পিউটার ও প্রিন্টার প্রদান করেন প্রধান অতিথি। স্মরনকালের বৃহত্তম এ সংবর্ধনা সভায় কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় দশ সহ¯্রাধিক লোকের সমাগম ঘটে। আওয়ামীলীগ ও অংগ সংগঠন এ সংবর্ধনার আয়োজন করলেও তা কাউখালীর সর্বস্তরের জনসাধারনের সংবর্ধনা সভায় পরিনত হয়। সর্বস্থরের জনসাধারনের দেয়া ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেষ্ট প্রদান ছিলো চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানশেষে পিকআপ ভর্তি করে ক্রেষ্ট ও ফুলের তোড়া নিয়ে যেতে দেখা যায়।

পরে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের গণসর্বধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদারকে প্রায় ৩ শতাধিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল ও ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়।