অনুপস্থিত থেকেও লামায় নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন শিক্ষকরা

626

॥ নুরুল করিম আরমান ॥

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাসিঁয়াখালী ইউনিয়নের লাইল্যামার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিল্পব মজুমদার ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেই নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজসে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও দৈনিক হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করে নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছে। এ বিষয়ে অভিযোগ করার পরও কার্যত কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিল্পব মজুমদার ২০১০ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি কর্ম দিবসে বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। পরে যে দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন; সে দিন অনুপস্থিত দিনগুলো হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দেন। প্রধান শিক্ষকের একই নীতি অনুসরণ করেন বিদ্যালয়টিতে কর্মরত কয়েকজন সহকারী শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষকসহ কয়েক জন সহকারী শিক্ষকদের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারনে বিদ্যালয়টির কোমলমতি শিশুরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বহু বছর ধরে। শিক্ষকদের অনুপস্থিতি এবং মানসম্মত শিক্ষার অভাবে দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের অভিযোগ।

এছাড়া প্রতি বছর বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্ধকৃত অর্থ, পুরাতন বই বিক্রয় ও শিক্ষার্থীদের হতে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক শিল্পব মজুমদারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্লাস্টার কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসাররা দুর্নীতিতে জড়িত বলে মনে করেছেন অভিবাবকরা।

অভিযোগের বিষয়ে শিল্পব মজুমদার এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকের নাম শুনে ফোন কেটে দেন।

প্রধান শিক্ষক শিপ্লব মজুমদারসহ সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার সত্যতা স্বীকার করে লামা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা যতীন্দ্র মোহন মন্ডল বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের অসচেতনতার কারনে শিক্ষকরা এমন সুযোগ পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অভিভাবকরা সচেতন না হলে এ অবস্থা দূর করা সম্ভব হবে না।