আসন্ন রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচন ৭নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়বেন ২প্রার্থী

366

॥ ইকবাল হোসেন ॥

আসন্ন রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন দুই হেভিওয়েট প্রার্থী একজন বর্তমান কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মো. জামাল উদ্দীন ও আরেকজন সাবেক কাউন্সিলর রবিউল আলম রবি। নির্বাচন বিষয়ে এই দুই কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের পরিকল্পনার নিয়ে প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় উঠে আসে অতীতের কাজ ও আগামীর পরিকল্পনা।
মো. জামাল উদ্দীনঃ

আসন্ন নির্বাচন বিষয়ে ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো. জামাল উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ কার হলে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আমার ওয়ার্ডের জনসাধারণ আমাকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। সুযোগ পেয়ে আমি জনসাধারনের জন্য দিন-রাত এক করে কিভাবে কাজ করেছি তা সকলে দেখেছে এবং তারা আমাকে ডে-নাইট কাউন্সিলর উপাধি দিয়েছেন। তাই আমি আশাবাদী যে আমার ওয়ার্ডের জনগণ আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আমাকে আরেক মেয়াদে সেবা করার সুযোগ দিবেন। ওয়ার্ডবাসী যদি আমাকে আবার তাদের সেবা করার সুযোগ দেয় তবে আমি যেভাবে গত ৫ বছর যেভাবে সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সেবা করেছি সেভাবে পাশে থেকে সেবা করে যাব। তিনি আরো বলেন- আমি আবার সুযোগ পাই তাহলে ওয়ার্ডের অবকাঠামো উন্নয়নের যেসব কাজ বাকি আছে তা সম্পন্ন করবো। ইতিমধ্যে গর্জনতলী সড়ক, আলম ডক ইয়ার্ড সড়ক, কাঁঠালতলী নীচের পাড়া এলাকার রাস্তা, বনরূপা সিএনজি স্টেশনের মুখ হতে ব্রাদার্স ক্লাব পর্যন্ত সড়ক, শশী দেওয়ান পাড়া বসু চাকমার বাসার সিঁড়ি নির্মাণের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে শীগ্রই কাজ শুরু হবে।
পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, লাইটিং ও মাদক নির্মূলের বিষয়ে আমার বিশেষ একটি পরিকল্পনা আছে যা অনেকটাই আমি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি এবার আমি সুযোগ পেলে ৭নং ওয়ার্ডের জনগনের পৌরসভা কর্তৃক প্রাপ্ত সকল সেবা শতভাগ নিশ্চিত করে মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব এটা আমার অঙ্গীকার। বৃদ্ধ, বিধবা, শিশু ও প্রতিবন্ধী ভাতা যোগ্যতা অনুসারে বিভিন্ন এলাকার সমাজ কমিটির মাধ্যমে প্রদানের ব্যবস্থা করেছি তা অব্যাহত রাখবো।

এখানে উল্লেখ্য যে করোনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগে জামাল উদ্দীনঃ ৭নং ওয়ার্ডে সরকারি ত্রাণ, শিশু খাদ্য বিতরণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সংগঠনকে, সংগঠনের মাধ্যমে, সংগঠন থেকে নিয়ে এবং ইউএনডিপি’র মাধ্যমে সহ¯্রাধিক অসহায়দের ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়াও ২ হাজার মাস্ক ও ৪ হাজার জনসচেতনতা মূলক লিফলেট, ১৪টি স্থানে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন, ৪০টি স্থানে নিজ উদ্যোগে বোতলের স্প্রে প্রদান, ১০টি স্প্রে মেশিন ক্রয় করে বিভিন্ন এলাকার স্বেচ্ছাসেবকদের প্রদান, বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ সংক্রান্ত ৩৫টি ব্যানার ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি গলির মুখে টাঙ্গিয়েছেন।
তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে- ছাত্রলীগের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য, কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য, ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৭নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে তিনি ৫বছর দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক, ক্রীড়া ও ব্যবসায়ী সংগঠনের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি- জেলার অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ইযুথ অর্গানাইজেশন ফর ইউনিটি ট্রাস্ট অ্যান্ড হেল্প (ইয়ুথ) এর উপদেষ্টা, ইয়ুথ মোস্তফা কামাল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা, পাবত্যাঞ্চলের সর্বপ্রথম অনলাইন ব্লাড ব্যাংক জীবন’র উপদেষ্টা, হোয়াইট হার্ট ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা, স্যালভেশনের উপদেষ্টা, প্রিয় রাঙামাটি’র উপদেষ্টা, প্রতিভা ক্রিকেট ক্লাবের উপদেষ্টা, বলাকা ক্লাবের সদস্য, স্বপ্নবুনন’র উপদেষ্টা, স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন’র বিদ্যাপীঠ-১ ও বিদ্যাপীঠ-২ এর চেয়ারম্যান, রাঙামাটি ব্লাড ব্যাংক’র উপদেষ্টা, ব্লাড ফোর্সের উপদেষ্টা, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাঙামাটি জেলা ইউনিটের আজীবন সদস্য, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শাখার সদস্য, দারুস সালাম ইসলামিক একাডেমীর সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা, কাঁঠালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, কামিল্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, বলপিয়া আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয পরিচালনা কমিটির সদস্য, আল-আমিন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য, মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমী পরিচালনা কমিটির সদস্য, ছদক ক্লাব পরিচালনা কমিটির সদস্য। আইডিয়াল স্কুল কাঁঠালতলী ক্যাম্পাসের সভাপতি, রাঙামাটি কাঠ ব্যাবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর সদস্য, ফার্ণিচার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য, করাত কল সমিতির উপদেষ্টা, বৃহত্তর বনরূপা ব্যাবসায়ী কল্যাণ সমবায় সমিতি লিঃ এর সদস্য। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক, ক্রীড়া ও ব্যবসায়ী সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন।

রবিউল আলম রবিঃ
রাঙামটি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা সাবেক কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র রবিউল আলম রবি’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি দুই মেয়াদে ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে একজন জনপ্রতিনিধির যতটুকু আওতাভূক্ত কাজ আছে তা পূর্বে ১২ বছর আমি শতভাগ করার চেষ্টা করেছি। এবার ওয়ার্ডবাসী যদি আমাকে এবার সুযোগ দেয় তাহলে কাউন্সিলর হিসেবে তৃণমূল পর্যায় থেকে নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের যে কেউ আমাকে যেকোন কাজে যখনই ডাকবে আমি তাদের ডাকে সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকব। তিনি বলেন জনসাধারণ যদি আমাকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আবারো তাদের সেবা করার সুযোগ দেয় তবে আমি আগামী ৫বছর জনগনের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিব এবং আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি।
আর আমার একটি দুর্নাম আছে এখনও বিভিন্ন এলাকায় আমাকে ডে-নাইট কাউন্সিলর বলে। যদিও এলাকার মানুষ বিপদে আপদে সর্বদা আমাকে কাছে পাওয়াতে এই উপাধিতে ভূসিত করেছে যদিও আমি নিজে এটিকে দুর্নাম বলি আসলে তারা ভালোবেসে আমাকে এই ডে-নাইট কাউন্সিলর উপাধি দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমাকে জনসাধারণ আবারো ৩য় মেয়াদে সেবা করার সুযোগ দিলে আমি বিশেষ কোন বিষয় উল্লেখ করবো না। আমার আওতাভূক্ত যেসব কাজ আছে তা আমি শতভাগ পালন করে যাব। অতীতে ১২বছর যেভাবে কাজ করেছি সেভাবে কাজ করে যাব। আমার ওয়ার্ডের জনসাধারণ দিন-রাত যেকোন সময় যেকোন সমস্যায় আমাকে ডাকলে অতীতে যেভাবে সাড়া দিয়েছি আগামীতেও তা অব্যাহত রাখব। আর লাইটিং ব্যবস্থা সম্পর্কে বলেন আমি নিজে পূর্বে সন্ধ্যায় সকল অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতাম এবং কোন জায়গায় লাইট নষ্ট থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি তা অব্যাহত থাকবে। অন্যান্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে পৌরসভা কর্তৃক বরাদ্দকৃত বাজেট আমি শতভাগ বাস্তবায়ন করব। পরিশেষে ১২বছর ৭নং ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনগনের সেবা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

রবিউল আলম রবি বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন। তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাঙামাটি জেলা ইউনিটের আজীবন সদস্য, এফপিএবি রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সদস্য, শান্তিনগর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, কাঁঠালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, তরুণ সামাজিক সংগঠন আলোর ফুল এর উপদেষ্টা, বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমবায় সমিতি লিঃ এর সদস্য, রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আসবাবপত্র ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজের সাথে জড়িত আছেন।