কোরবানির ঈদ ঘিরে রাঙামাটিতে ব্যস্ততা বেড়েছে ঘামার্ত কামারদের

326

॥ শহিদুল ইসলাম হৃদয় ॥
আসন্ন ঈদ-উল-আযহা সামনে রেখ ব্যস্ত সময় পার করছে রাঙামাটি জেলা ও শহরের কামাররা। কোরবানির পশু জবাই কাজে ব্যবহৃত ছুরি, দা, বটিসহ বিভিন্ন ধারালো যন্ত্রপাতি তৈরি ও আগুনের শিখায় লোহা পুড়িয়ে উক্ত উপকরণের পুরাতন ধাতব সমূহ সানাই বা ধার দিতে মানুষ নিয়ে আসছে স্থানীয় এই কামারীদের কাছে।

শহরের রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি, বনরুপার মূল তিনটি পয়েন্টে এই কামার শিল্পীরা ধারাবাহিক ভাবে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। যেহেতু শুধুমাত্র সারা বছরের এই সময়টাতে ব্যবসা জমে উঠে তাই এ সুযোগ হাত ছাড়া করতে নারাজ এখানকার কামারীরা।

এবিষয়ে রিজার্ভ বাজার এলাকার এক কামারী নন্দন কর্মকার প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে রাঙামাটির বেশির ভাগ মানুষ এবার কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য হারিয়েছে তারমধ্যে মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা বেশি। যদিও বা আমাদের বিগত বছরের তুলনায় এবছর ক্রেতা কমেছে তারপরও আমাদের কাজ আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রতিবছরেই কোরবানি ঈদের আগের এই সময়টাতে জেলার মোট ৩০ টি দোকানের প্রতিটি দোকানে প্রায় ৩ থেকে ৪ জন করে শ্রমিক রেখে আমরা পশু জবাই ও নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ ব্যবহৃত এসব ধাড়ালো যন্ত্রপাতি গুলো তৈরি ও মেরামত করি। এবারে শ্রমিকদের মজুরি দিতে একটু হিমশিম খেতে হলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়া সকলের কথা চিন্তা করে দা, ছুরি, বটি ইত্যাদির দাম আমরা কমিয়ে দিয়েছি। যেমন পশু জবাইয়ের ছুরি যেটা কিনা আগে ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি করতাম তা বর্তমানে ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করছি, পশুর চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত ২৫০ টাকা দামের ছুরি এখন ১৫০ টাকা, দা ও বটি যেগুলো আগের দাম ছিলো ৭০০-৮০০ টাকা সেগুলো এখন আমরা নিচ্ছি ৪০০-৫০০ টাকা।

কামারের দোকানে দা, ছুরি, বটি ধার করতে আসা পৌর কলোনি এলাকার মোঃ শাকিল আহাম্মেদের সাথে কথা বললে সে বলে, ঈদ-উল-আযহার দিনটি আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন। এই দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে গরু, ছাগল, মহিষ, উট আমরা কোরবানি করি। (সুরাঃ কাউসার, আয়াতঃ ২) এ মহান রাব্বুল আল-আমিন আমাদের রাসূলকে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইরশাদ করেছেন “তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় ও কোরবানি করো”। পূর্ব প্রচলিত ধারাবাহিকতা এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনের লক্ষ্যে আমরা কোরবানি দিয়ে থাকি। আমি মনে করি কোরবানির দিন কোরবানি করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত এবং কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের একেকটি করে নেকি দিবেন।

তাই কোরবানির পশু জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বাসায় যা সরঞ্জাম ছিলো বিশেষ করে ছুরি, দা, বটি এগুলো একটু ধার দিয়ে লবণ পানি দিতে কামারের কাছে নিয়ে এসেছি। কারণ জিনিস গুলো সারা বছরের এই দিনটাতেই কাজে লাগে, পশু জবাই কাজের যন্ত্রপাতিগুলো লোহার তৈরি তাই ব্যবহার না হওয়ায়  সেগুলোতে মরিচা বা জং ধরে যায় ফলে কোরবানির পশুর জবাই কাজে অনেক ব্যঘাত ঘটে।