চাঁদা নিতে গিয়ে নেতার ভাই স্থানীয়দের হাতে আটক>>মুচলেকায় ছাড়া

400

Crime

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥ চাঁদার দাবিতে কাঠ ব্যবসায়িকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়িদের হাতে আটক হয়ে উত্তম মধ্যমের শিকার হয়েছে রাঙামাটি সাবেক ছাত্রনেতার ছোট ভাই রিপন উদ্দিন। মঙ্গলবার বিকেলে রাঙামাটি শহরের প্রবেশ মুখ মানিকছড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় আ’লীগ নেতারা ক্ষুব্ধ ব্যবসায়িদের রোষানল তাকে মুচলেকার মাধ্যমে উদ্ধার করে শহরে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়িদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মানিকছড়িস্থ একতা কাঠ ব্যবসায়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ব্যবসায়ি রিটন বড়ুয়া জানান, রিপন উদ্দিন বিগত কয়েকদিন ধরেই আমাকে ফোন করে এবং সরাসরি উপস্থিত হয়ে তার নামে ছয় হাজার ফুট জ্বালানী কাঠের টিপি দেওয়ার জন্য। আমি তাকে সরকারি খাতে খরচকৃত রাজস্ব পরিশোধ করে টিপি নেওয়ার অনুরোধ জানালে সে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এরপর সে সাথে করে তথাকথিত একজন মিডিয়াকর্মীকে সাথে নিয়ে এসে আমাদেরকে নিউজ করার হুমকি দেয়। এতেও কাজ না হওয়ায় পরবর্তীতে বিভিন্ন বাহিনীকে দিয়ে আমাদের হয়রানী করার হুমকিও দেয়। কোনো কিছুতেই নাপেরে সে আমার কাছে মুঠোফোনে গাড়ি প্রতি ৫শ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। আমি বৈধভাবে ব্যবসা করছি জানিয়ে তাকে কোনো প্রকার চাঁদা দিতে পারবো না জানালে সে রাঙামাটি গেলে আমার হাত পা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিবে বলেও জানায়। আমি পরে রাঙামাটি দুদিন যাইনি। কিন্তু মঙ্গলবার সে আমাকে মারার জন্য মানিকছড়িতে এসে প্রকাশ্যেই হামলা চালায় আমার উপর। এসময় প্রকাশ্য দিবালোকে আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয় রিপন। তার এই ধরনের আচরনে স্থানীয় ব্যবসায়িরা ক্ষিপ্ত হয়ে রিপনকে আটক করে সমিতির অফিসে আটকিয়ে রাখে।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ি ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান আয়াত চৌধুরী জানান, আমাদের আটটি গাড়ি ফরেষ্ট অফিসে আটক অবস্থায় রয়েছে। সেগুলো ছাড়িয়ে দেওয়ার নাম করে রিপন তার এক দুলাভাইকে সাথে নিয়ে আমাদের কাছ থেকে এক লাখ বিশ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু আমাদের গাড়িগুলো না ছাড়িয়ে পুরো টাকা-ই মেরে দিয়েছে তারা। এই ঘটনায় আমি তার বড় ভাইকে জানালে তিনি নিজেও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জানান, রিপন পরিবারের অবাধ্য তাই তিনি কিছুই করতে পারবেন না।

এদিকে ঘটনার পরপরই রাঙামাটি কোতয়ালী থানার এসআই ইউছুপ তার সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিযে ঘটনাস্থলে যান। এসময় তিনিসহ সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হৃদয় বিকাশ চাকমা, সাধারণ সম্পাদক চম্পা চাকমার প্রচেষ্টায় মুচলেকার মাধ্যমে ব্যবসায়িদের কাছ থেকে রিপনকে ছাড়িয়ে আনেন।

এদিকে উক্ত বৈঠকে নিজের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিপন উদ্দিন।