প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতকরণে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক

323

স্টাফরিপোর্ট- ১ জুলাই ২০১৮, দৈনিক রাঙামাটি (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি):  জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা যায় কি না তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যেতে পারে। এবারের বাজেটে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেট রাখা হয়েছে। তার মধ্যে প্রতিবন্ধী মানুষসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, বয়স্ক, বিধবাদের ভাতার অর্থ এবং আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সুস্থ রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে আমরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীসহ সকল মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। গত শনিবার বিকালে এফডিসিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করণে বাজেট বরাদ্দ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব’ নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে এক ছায়া সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী মানুষসহ নারী, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীসহ সকলের উপযোগী একটি জনবান্ধব বাজেট এবারে উপহার দেওয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আন্তরিক। তাই বর্তমান সরকার সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার সর্বপ্রকার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সরকার ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীবান্ধব নির্মাণ আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে যাতে স্বাভাবিক চলাফেরায় তারা কোন বাঁধার সম্মুখীন না হয়। তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই, জাতির কল্যাণ। তাই বাজেটের সদ্ব্যবহার হচ্ছে কি না তার জন্য আমরা খোঁজখবর রাখি, অডিট করি। এছাড়াও সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, অবকাঠামো ও বিদ্যুৎসহ সকল ক্ষেত্রে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ যদি প্রতিবন্ধী হয় তাহলে এই বিশাল জনশক্তিকে আমরা যদি কাজে না লাগাতে পারি তাহলে আমাদের জিডিপি ৩ থেকে ৭ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে কোথায় কোথায় কাজে লাগানো যায় সেভাবে সরকারি-বেসরকারি তেমন কোনো গবেষণা নেই। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর আমরা যেভাবে সর্বোচ্চ কর দাতাকে সম্মানিত করি ঠিক সেভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান করছে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা যেতে পারে। তাহলে আরো অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধী কর্মী নিয়োগে এগিয়ে আসবে। এছাড়া প্রতিবন্ধী মানুষের কর্মসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর সুবিধা দিলে আরো বেশী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এবারের বাজেটে প্রতিবন্ধীদের জন্য যা বরাদ্দ রাখা হয়েছে তা এখনো পুরাপুরি স্পষ্ট নয়। তবে যতটুকু বুঝা যাচ্ছে এই বরাদ্দ প্রতিবন্ধী মানুষের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। জনাব কিরণ আরো বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে ঢাকা শহরে শতকরা ৩০% প্রতিবন্ধী ভিক্ষুককে তাদের পরিবার জোর করে ভিক্ষাবৃত্তি করাচ্ছে। যার পুরো অর্থই পরিবারের অন্য সদস্যরা নিয়ে নেয়। তারা তাদের পরিবারের প্রতিবন্ধী সদস্যকে গাভীর মত অর্থ উৎপাদক যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বলে জনাব কিরণ উল্লেখ করেন।

প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। বিচারক ছিলেন  লেখক আতিকুর রহমান, অধ্যাপক আবু মোঃ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ মোস্তাফিজুর রহমান খান। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের মাঝে ক্রেষ্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

সংবাদ প্রেরক- মো. আবুল বাশার
সমন্বয়কারী- ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান