রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে হট্টগোলের গুজব

365

॥ মঈন উদ্দীন বাপ্পী ॥

গতকাল রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজের ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে হট্টগোল হয়েছে বলে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আসলে আসলে তেমন কিছুই হয়নি। বিশেষায়িত এই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনা অনুসন্ধানে জানা যায়, রোববার সকাল ১১টার দিকে সুখী নীলগঞ্জের হ্যাচারী এলাকায় রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য নির্বাচিত ভূমি পরিমাপকালে শহরে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ে। শহরের চারদিক গুজব রটে ওই এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের সাথে পুলিশের ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, মেডিকেল কলেজের হিসাব কর্মকর্তা বিষ্ণু দত্ত জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তিনি জানান, মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের লক্ষ্যে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ২৬.৮৫ একর জায়গায় জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয় রোববার। পরিমাপকালে ওই জায়গায় বসবাসরত কয়েকজন নারী ভুল বুঝে আপত্তি জানায়। পরে তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হলে তারা সন্তুষ্ট হন। তবে বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

জরিপ কাজে অংশ নেওয়া মেডিকেল কলেজের স্টাফ শ্যামল বৈদ্য জানান,জরিপকাজ পরিচালনা কালে কোন ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। এ বিয়য়ে কয়েকজন নারী না জেনে আপত্তি তোলার চেষ্টা করে। তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, হ্যাচারী এলাকার এ জায়গাটি জেলা মৎস্য বিভাগের। দীর্ঘদিন জায়গাটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকায় সরকার মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য এ জায়গায় জরিপ কাজ শুরু করে। বর্তমানে এ জায়গাটি স্বাস্থ্য বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়। আর স্বাস্থ্য বিভাগ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এ জায়গাটির পরিমাপ করতে গেলে শহরের চারদিক হট্টগোলের গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রশিদ জানান, মেডিকেল কলেজের জায়গা নিয়ে কোন ধরণের হট্টগোল হয়নি। জরিপকালে আমি অকুস্থলে উপস্থিত ছিলাম। দু’জন নারী তাদের জায়গার সীমানা নিয়ে ভুলবশত বাকবিতন্ডা করলেও তাদের সেখানে কোনো স্বত্ত্ব থাকার বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন একেবারে শান্ত পরিবেশে আপোষের সাথে জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়।