লংগদুতে টেকসই সামাজিক প্রকল্পের মাঠ সংগঠকদের সভা

83

॥ বিহারী চাকমা ॥
পার্বত্য চট্টগ্রাম টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের লংগদু উপজেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে মাঠ সংগঠকদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত পার্বত্য চট্টগ্রাম টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের উপজেলা কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

লংগদু উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে কর্মরত ২০জন মাঠ সংগঠক সভায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া উপজেলায় কর্মরত ৪জন সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক উপস্থিত ছিলেন। এসময় মাঠ সংগঠক ও সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপকরা তাদের বেশকিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে পিসিএমসি কমিটির একাউন্টের টাকা থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের টাকা কেটে নেয়ার বিষয়ে জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপককে অবহিত করেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছ থেকে আশানুরূপ সহায়তা দেয়া হয় না বলেও জানান তারা। সভায় সময় মাঠ সংগঠকদের হাতে মোবাইল ফোন (ট্যাব) ও পাড়াকেন্দ্রে নিয়োজিত পাড়াকর্মীদের জন্য ছাতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

প্রকল্পের লংগদু উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক ওয়াছিন রায়হানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের রাঙামাটি জেলা ব্যবস্থাপক মঞ্জু মানস ত্রিপুরা। সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন দৈনিক আমাদের বাংলার রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি বিহারী চাকমা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মঞ্জু মানস ত্রিপুরা বলেন- টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পটির কার্যক্রম সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সংগঠকরদেরই দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখতে হবে। প্রকল্পের যে কোন কাজকে গুরুত্ব দিয়ে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। পাড়াকেন্দ্রে নিয়োজিত পাড়াকর্মীদের কর্মতৎপর করার জন্য মাঠ সংগঠকদের আরো যত্নশীল হতে হবে। এলাকার শিশু, কিশোর-কিশোরী, মা, গর্ভবতী মহিলারা যাতে প্রয়োজনীয় সেবা পায় সেদিকে সযত্নে নজর দিতে হবে। প্রকল্পের কাজে গতিশীলতা আনতে হলে কি কি করণীয় রয়েছে সে বিষয়ে তিনি মাঠ সংগঠকদের কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দেন এবং সেসব কৌশল বিষয়ে অবহিত করেন।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক বিহারী চাকমা বলেন- আগামী প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ার জন্য মাঠ সংগঠক ও পাড়াকর্মীরা অত্যন্ত যত্নশীল হয়ে কাজ করছেন। শিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য যে শিক্ষিত মা দরকার। কিশোরী কল্যাণ, কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতন করা, তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। পাড়াকর্মী ও মাঠ সংগঠকরা সেই মহান ব্রত হাতে নিয়েছেন। শিক্ষিত জাতি ও আলোকিত মানুষ গড়ার কাজে নিবেদিত প্রাণ মাঠ সংগঠকদের পরিশ্রম একদিন অবশ্যই সার্থক হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা প্রকল্প ব্যস্থাপক ওয়াছিন রায়হান বলেন- জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মহোদয় যে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন তা আমাদের যত্নের সঙ্গে পালন করা উচিত। তার শিক্ষণীয় পরামর্শ মানুষকে ভেতর থেকে জাগিয়ে তোলে। মাঠ সংগঠকদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভা শেষে নির্মাধীন একটি মডেল পাড়া কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মঞ্জু মানস ত্রিপুরা। এর আগে সকালে লংগদু যাবার পথে বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের শুকরছড়ি পাড়াকেন্দ্রে গিয়ে গ্রামবাসীর জন্য স্যানিটারি ল্যাট্রিনের স্ল্যাপ, সার্জিকেল মাক্স, সাবান, নেইল কাটার, শিক্ষার্থীদের কলম উপহার দেন। এছাড়া ৪জন প্রতিবন্ধীর হাতে নগদ টাকা বিতরণ করেন।

এসময় তিনি গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন- সুন্দর সমাজ গড়তে গ্রামের পাড়াকেন্দ্রগুলো গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখছে। শুকরছড়ি পাড়াকেন্দ্রের পাড়াকর্মী সঞ্চিতা চাকমাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার জন্য তিনি গ্রামবাসীকে অনুরোধ জানান।