সপ্তম ধাপে রাঙামাটির তিন উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে শান্তিপূণ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

360

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির তিন উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৭টি ইউনিয়নের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া যায়। বেসরকারি ফলাফলে ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ০৪টিতে বিজয়ী হয়েছেন অবশীষ্ট ১৩টিতে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হন। সোমবার (০৭ফেব্রুয়ারী) তিন উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বেসরকারি ফলাফলে লংগদু উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে তিন ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রাথীরা বিজয়ী হন। এদিকে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীরা ৩টিতে জয় অর্জন করেন এবং দলীয় পরিচয় ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন ১টিতে।

এর মধ্যে লংগদু ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী কুলিনমিত্র চাকমা আদু (আনারস) বিজয়ী হয়েছেন তার প্রাপ্ত ভোট ৩,৩২৫, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অশোক চাকামা (ঘোড়া) পান ২,৫০৫ ভোট। মাইনী ইউপিতে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন কমল- (আনারস) ৩,৫০৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল আলী (নৌকা) পেয়েছেন ৩,২৪২ ভোট। ভাসান্যাদাম ইউপিতে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হযরত আলী (ঘোড়া) ১,৬৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসমাইল হোসেন (নৌকা) পেয়েছেন ১,৩৯১ ভোট। কালাপাকুজ্যা ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বারেক দেওয়ান (আনারস) ২,২১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোস্তফা মিয়া (নৌকা) পান ১,৩৪৭ ভোট। গুলশাখালীতে ইউপিতে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের শফিকুল ইসলাম (নৌকা) ২,০৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রাথী রাকীব হোসেন (ঘোড়া) পান ১০৯৮ ভোট। বগাচত্ত্বর ইউপিতে আ.লীগের আবুল বশর (নৌকা) ২,৬২৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল গাফফার ভইয়া (মোটর সাইকেল) ভোট পান ১,৭৮৮। আটারকছড়া ইউপিতে আ.লীগের অজয় মিত্র চাকমা (নৌকা) ৫,৩০৪ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলমগীর হোসেন (আনারস) পেয়েছেন ১০২৪।

এ দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার ০৮টি ইউনিয়নের মধ্যে খেদারমারা ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিল্টু চাকমা আনারস প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। মারিশ্যা ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আপন চাকমা আনারস প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বাঘাইছড়ি ইউপিতে ক্ষমতাসীস দল আ.লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী অলিভ চাকমা নৌকা প্রতীক নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় বিজয়ী হন। রূপকারী ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জ্যাসমিন চাকমা ধনেশ^র ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় বিজয়ী হয়েছেন। বঙ্গলতলী ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জ্ঞান জ্যোতি চাকমা ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। সাজেক ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী অতুলাল চাকমা আনারস প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আমতলী ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান আনারস প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং সারোয়াতলী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ভুপতি রঞ্জন চাকমা বিজয়ী হয়েছেন।

জুরাছড়ি উপজেলার দু’টি ইউনিয়নের মধ্যে জুরাছড়ি ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমন চাকমা চশমা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং বনযোগীছড়া ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সন্তোষ চাকমা আনারস প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

সোমবার সকাল থেকে সারাদেশের ন্যায় সপ্তম ধাপে রাঙামাটির লংগদু, বাঘাইছড়ি এবং জুরাছড়ি তিনটি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে তিনটি উপজেলায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে ১৫প্লাটুন বিজিবি, এক হাজার পুলিশ এবং তিন হাজার আনসার মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি ৬প্লাটুর র‌্যাব এবং ১৬জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করেছেন।

তিন উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের ১৫৮টি ভোট কেন্দ্রে মোট ১লাখ ২৮হাজার ৩৬৭জন ভোটার রয়েছেন। ১৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫৯জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৪১জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৪৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন।