ম্যালেরিয়া প্রবণ রাঙামাটি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা কমছে

552

স্টাফরিপোর্ট- ২৫ জুন ২০১৮, দৈনিক রাঙামাটি:  এক সময় ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকা হিসেবে খ্যাত রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় গত বছরের তুলনায় এ বছর ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা আরো কমে গেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার। জানা গেছে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারি বেসরকারি সংস্থাগুলো ধারাবাহিক ওয়াশ প্রোগ্রাম, দ্রæত চিকিৎসা সেবা, এ রোগন্নয়ন্ত্রণে প্রিভেন্টিভ পদক্ষেপ গ্রহণ তথা অব্যাহতভাবে কিটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই রাঙামাটি জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা আশানুরূপভাবে কমে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে জেলায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি আর তেমন একটা থাকবেনা বলে আশা প্রকাশ করেন সিভিল সার্জন। জেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানান তিনি।

সিভিল সার্জন আরো জানান, বরাদ্দ পাওয়ার পর ইতোমধ্যে জেলার রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলি ৫০শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ করা হবে। প্রসঙ্গক্রমে সিভিল সার্জন জানান, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গা অবৈধ দখলের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহায়তা কামনা করেছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার (১৯জুন) অনুষ্ঠিত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাসিক সভায় এসব তথ্য জানান তিনি। পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরা’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য এবং হস্তান্তরিত বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেছেন, সেবার মন নিয়ে আমাদের সবাইকে জনগণের পাশে থাকতে হবে। পরিষদের প্রতিটি সভায় এ জেলার উন্নয়নে যেসব বিষয় আলোকপাত হয় তা বাস্তবায়নে কাজ করে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সকলে যদি ভাল মন নিয়ে কাজ করি তাহলে এ জেলা তথা দেশ দ্রæত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। সাধারণ জনগণের কল্যাণে উন্নয়নমূলক কাজ করার আহŸান জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, চলতি মাসে অতি বৃষ্টিপাতে জেলায় ২৪০হেক্টর আউশ ও ৮০ভাগ শাক-সবজি বাগানের ক্ষতি হয়েছে। সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রবিউল হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা যার যার কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মনোরঞ্জন ধর বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের কৃত্রিম প্রজনন, চিকিৎসা সেবা, টিকা প্রদান, প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক কার্যক্রম করা হয়েছে। এছাড়া গবাদি পশুর চিকিৎসা ও প্রোডাকশন কার্যক্রম যথারীতি চলছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিব উল্ল্যা বলেন, কম্পিউটার, বিউটিফিকেশন, গবাদী পশু পালন’সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের নিমিত্তে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগ্রহী যুবরা আবেদন করতে পারবে।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।