॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট’২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে কর্মকৌশল নির্ধারণের অংশ হিসেবে দুইটি দুর্গম হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলাপ্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী।
এই প্রথম কোনো জেলাপ্রশাসক দুর্গম জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির প্রত্যন্ত ওই ভোটকেন্দ্র দু’টি পরিদর্শন করলেন। বিগত বহুবছর যাবত যোগাযোগে আক্ষরিক অর্থেই দুর্গম এই ভোটকেন্দ্র দু’টিতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনী সামগ্রী ও লোকবল পৌঁছানো হয়ে থাকে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) জেলাপ্রশাসক ও তার সফরসঙ্গীরা গাড়ি ও পায়ে হেটে নানা উপায়ে ওই ভোটকেন্দ্র দু’টিতে স্বশরিরে উপস্থিত হন। কেন্দ্র দু’টি হলো জুড়াছড়ি উপজেলার দুর্গম দুমদুম্যা ইউনিয়নের বগাখালি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত ভোটকেন্দ্র ‘ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’।
এলাকাবাসী জানায়, জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুম্যা ইউনিয়নের বগাখালি বিদ্যালয়ে জুরাছড়ি উপজেলা থেকে সরাসরি যেতে হলে পায়ে হেটে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। উপজেলা সদর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে ওই বিদ্যালয়ে পৌঁছুতে দেড়দিন সময় ব্যায় হয়। তবে জেলাপ্রশাসক রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলা হয়ে প্রথমে ফারুয়া যান এবং সেখান থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বগাখালী গিয়ে পৌঁছেন।
এ সময় জেলাপ্রশাসকের সাথে সফরসঙ্গী হিসেবে অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনসহ রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিনা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
এমন দুর্গম এলাকায় প্রথমবারের মতো ডিসিসহ জেলার উর্ধতন কর্মকর্তাদের পৌঁছার খবর পেয়ে এলাকার মানুষ ভেঙ্গে আসে তাদের এক নজর দেখতে। এ সময় ডিসি নাজমা আশরাফি উৎসুক জনতার সাথে মত বিনিময় করেন এবং তাদের এলাকায় সুষ্ঠুভোটে করনীয় এবং সম্ভাব্য সমস্য সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। ভোটাররা জানায় কেন্দ্র দু’টিতে বিদ্যুৎ বা মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই।
জেলাপ্রশাসক এ সময় জনসাধারণের উদ্দেশ্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এর বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি তাদের মাতৃভাষায় লিখিত গণভোটের প্রচারপত্র বিলি করেন। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ- নির্বাচনের সময় সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্তদের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন। তারা জেলাপ্রশাসনের কর্মকর্তারা কষ্ট স্বীকার করে তাদের দেখতে যাওয়ায় আবেগজড়িত কণ্ঠে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।






























