বাঘাইছড়ি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সেবা নিয়ে অপপ্রচার

224

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের ইদুর-বিড়াল খেলাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে স্থানীয় সেবা প্রত্যাশীরা। উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না থাকার পরেও স্টোর ইনচার্জের অনাকাঙ্খিত অনুপস্থিতির সুযোগে কোনো প্রকার পূর্বানুমতি না নিয়ে নিজস্ব ঔষধ গুদামে তালার উপর নতুন তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। এই ধরনের কর্মকান্ডে রাঙামাটি জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে বাঘাইছড়িতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রেরণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট্য কর্তৃপক্ষ।

এদিকে এই ধরনের কাজ করে উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট ভূল চিত্র তুলে ধরে স্টোর ইনচার্জ শাহাদাতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অপচেষ্ঠা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শাহাদাৎ। তিনি দাবি করেছেন, তার স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর বিশেষ প্রয়োজনে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুমোদনবিহীন মৌখিক ছুটি নেওয়া হয়। ফলে ২৩ সেপ্টেম্বর মেডিকেল এমওএমসিএইচ ডাক্তার রবিন ভট্রাচার্য চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করার জন্য আসলে শাহাদাৎকে না পেয়ে গুদামে নতুন তালা লাগিয়ে সীলগালা করে দেন। ফলে ২৩ তারিখ অফিস থেকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তার জবাবও প্রদান করেছেন স্টোর ইনচার্জ শাহাদাৎ।

এদিকে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শাহাদাতের কারনে কোন ঔষুধ সরবাহ করা যাচ্ছেনা এবং স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাচ্ছেনা। এছাড়া শাহাদাৎ নিয়মিত অফিস করছেননা এমন গুজব ছড়িয়ে দেয় একটি মহল। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাঘাইছড়িস্থ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী সুপায়ন চাকমা মুঠোফোনে জানান, রবিন ভট্রাচার্য স্যার ক্যাম্প পরিচালনা করার জন্য আসলে শাহাদাৎকে না পেয়ে তিনি নতুন তালা লাগিয়ে সীলগালা করে দেন।

বাঘাইছড়ি পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ভিডিপি সদস্য তরিকুল জানান, শাহাদাৎ প্রতিনিয়ত অফিস করেছেন। তিনি জানান, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে শাহাদাতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

শাহাদাৎ জানান, আমার স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর বিশেষ প্রয়োজনে জরুরী ভিত্তিতে অনুমোদন না নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করি। কিন্তু রবিন ভট্রাচার্য স্যার চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করার জন্য আমার অনুপস্থিতিতে নতুন তালা লাগিয়ে সীল গালা করে দেয়। পরে আমাকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে আমি তার জবাব দেই। সুতারাং আমার কারনে চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাচ্ছেনা, ঔষধ সরবাহ করা যাচ্ছেনা তা সম্পূর্ন ভিত্তিহীন। যেহেতু তালা পরিবর্তন করা হয়েছে ও সীলগালা করা হয়েছে সেহেতু আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের বানোয়াট কথা রটানো সম্পূর্ন একটি অপপ্রচার।

শাহাদাৎ আরো জানান, আঞ্চলিক অফিস থেকে গুদাম রক্ষক প্রিয় বালা তঞ্চঙ্গ্যা এবং আঞ্চলিক সরবরাহ কর্মকর্তা মাহামুদুল ইসলাম মহোদয় আমাকে ফোন করে ঔষধপত্র ও মালামাল প্রেরণ করবেন এবং রিসিভ করতে পারবো কিনা জানতে চাইলে আমার কাছে গুদামের চাবি না থাকার বিষয়টি অবহিত করি এবং আমার কর্মকর্তার অনুমতি এবং গুদামের চাবি হস্তান্তর করলে আমি অবশ্যই ঔষধপত্র ও মালামাল রিসিভ করবো বলে তাহাদেরকে জানাই। সরবরাহ কর্মকর্তা মহোদয় আমার উপজেলা কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে দেখবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।