রাঙামাটিতে তামাক প্রতিরোধ ও আইন সচেতনতা বাড়তে মোবাইল কোর্ট

320

॥ আলমগীর মানিক ॥

মাদকের অবাধ বিস্তারে বিপদগামী মাদকসেবী-ধূমপায়ি জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। মাদক ও ধূমপান বিরোধী সপ্তাহকে কেন্দ্র বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকায় অন্তত দুই ঘন্টাব্যাপী দোকানীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে মাদক ও ধূমপানের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে জনসম্মুখে তামাক জাত পণ্যের অবাধ বিজ্ঞাপন প্রচারে অংশ না নেওয়ার জন্যে স্থানীয় ব্যবসায়িদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারি রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের এনডিসি তাপস শীল।

এসময় তিনি উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর নাছিমা আক্তার খানম, রিজার্ভ বাজার ব্যবসায়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিনসহ সঙ্গীয় পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের লোকজনকে সাথে নিয়ে বাজারের বিভিন্ন খাবারের দোকানেও অভিযান পরিচালনা করেন।

নোংরা পরিবেশে খাবার পরিবেশনের অভিযোগে একটি মাত্র দোকানকে অর্থ দন্ডে দন্ডিত করে বাকি সকল দোকানীদেরকে সিগারেট এর জনাকর্ষণ জাতীয় বিজ্ঞাপন অবাধে প্রচারে অংশগ্রহণ না করাসহ দোকানের সামনের অংশে যাতে সিগারেটের বিভিন্ন পোষ্টার-ফেষ্টুন ও খালি প্যাকেট ঝুলিয়ে না দেয় সে ব্যাপারে ভবিষ্যতের জন্যে সতর্ক করে দেন এনডিসি তাপস শীল। এর আগে শহরের বনরূপা এলাকায়ও একটি দোকানকে নোংরা পরিবেশে খাবার বিক্রির অপরাধে অর্থ দন্ডে দন্ডিত করেন।

রিজার্ভ বাজারে অভিযানের সময় তিনি বলেন, জরিমানার মাধ্যমে আপনাদেরকে শাস্তি প্রদান করে সন্মানিত ব্যবসায়ি ভাইদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার কোনো মানস রাঙামাটি জেলা প্রশাসন তথা মোবাইল কোর্টের নাই। স্থানীয় জনসাধারণকে নিজেদের সুস্বাস্থ্যের জন্যেই রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইনের নূন্যতম প্রয়োগ করতেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। জনগণ যাতে করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় এবং আইন মানেন সেই জন্যেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।

এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরো কঠোরভাবে পরিচালনা করা হবে জানিয়ে ব্যবসায়িদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হন সেই জন্যেই আজকে আপনাদেরকে সর্তকতামূলক বার্তা দিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তীতে এসে এই ধরনের কর্মকান্ড যাতে আমাদের চোখে না পড়ে সেটি নিশ্চিত করবেন ব্যবসায়ি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এই লক্ষ্যে ব্যবসায়িদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ি সমিতিকে উদ্যোগ নেওয়ারও আহবান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেই জেলা প্রশাসন মাদকসেবী ও ধূমপায়ীদের বিরুদ্ধে লড়ে যেতে পারবে না। এতে করে স্থানীয় জনসাধারণকেই সর্বাজ্ঞে এগিয়ে আসতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন তবেই আম-জনতা মাদক ও ধূমপানের কুফল সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পথ খুঁজে পাবে।