জুরাছড়ি জোনের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে জমজমাট নৌকা বাইচ

326

 

p-2

॥ স্মৃতি বিন্দু চাকমা ॥ সেনাবাহিনীর ‘আদর্শ একুশ জুরাছড়ি জোন’ এর ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী নানা আয়োজনে জাঁক জমকের সাথে পালিত হয়েছে সোমবার। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে জোনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষনীয় নৌকা বাইচ। অনুষ্ঠানসমূহে প্রধান অতিথি ছিলেন, ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড ও রাঙামাটি সেনা রিজিয়নের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সানাউল হক পিএসসি।

নৌকা বাইচ এ বিভিন্ন উপজেলা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে ১০টি দল অংশ গ্রহণ করে। এ সময় এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার সমন্বয়ে বিপুল সংখ্যক জনগণ এই আকর্ষণীয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা উপভোগ করেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে বিজয়ী হয়েছে কদরকায়া গ্রাম, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে বরকল উপজেলা থেকে অংশগ্রহণকারী দল এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে রাঙামাটি সদর উপজেলা থেকে অংশ গ্রহণ করা বালুখালী ইউনিয়নের রাজমুনি পাড়া গ্রাম।

প্রতিযোগীতা শেষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রিজিয়ন অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সানাউল হক পিএসসি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। জুরাছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ একে ওবায়দুল হক এর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা।

প্রধনি অতিথির বক্তব্যে বিগেড কমান্ডার বলেন, খেলাধুলা মানুষের মাঝে যে নির্মল আনন্দের জন্ম দেয় তাতে সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যর বন্ধন গড়ে উঠে। তিনি বলেন, আমরা চাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল এলাকার মানুষ পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে জীবন যাপন করুক। এই সম্প্রীতির নিদর্শন হিসেবেই সেনাবাহিনী ক্রীড়াসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক উন্নয়নে পাহাড়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, নৌকা বাইচ হচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি খেলা। এ ধরণের আয়োজন করার জন্য আমি জুরাছড়ি জোনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আগামী দিনেও জোনের আয়োজনে এলাকার খেলাধুলা নিয়ে প্রতিযোগীতার ব্যবস্থা করতে তিনি জোন কমান্ডারকে নির্দেশ দেন।

পরে জোন প্রাঙ্গনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কার্বারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রীতি ভোজের আয়োজন করা হয়।