১৩ মে ২০২৬, ঢাকা ব্যুরো অফিস, দৈনিক রাঙামাটি
‘পাহাড় জলে পর্যটন রাঙামাটি সুন্দরবন’ এই স্লোগানকে ধারণ করে সাম্প্রতিক সময়ে দৈনিক রাঙামাটি পত্রিকার সহযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে ঢাকার বাংলামোটরের ‘বিশ^সাদিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে’ ‘সুন্দরবন পর্যটন ক্লাব’ বেশ কয়েকটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। যেখানে দেশের পর্যটনশিল্প উন্নয়নে ‘বলেশ^র-নলী নদী মোহনায়’ সুন্দরবন দেখার নতুন পথ, প্রস্তাবিত- ‘মঠবাড়িয়া পর্যটন কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিল্প-সাংস্কৃতিক অংঙ্গনের প্রায় অর্ধশত গুণিজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ আয়োজনে পর্যায়ক্রমে ‘সুন্দরবন পর্যটন ক্লাব- অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের’ বর্ণাঢ্য জীবনের উপর আলোকপাত করা হবে। এবারের প্রতিবেদনে থাকছেন, সংগীতগুরু রামপ্রসাদ সূত্রধর শীর্ষপতি।
নিজস্ব প্রতিবেদক : আদি ঢাকাবাসীর মাঝে সংস্কৃতিজন ও সংগীতগুরু হিসেবে পরিচিত একটি নাম রামপ্রসাদ সূত্রধর। পরিচিতজনরা যাকে চেনেন ‘শীর্ষপতি’ নামে। তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তালিকাভূক্ত এবং পুরান ঢাকায় জনপ্রিয় শিশুতোষ সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মৈত্রী শিশু দল’ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সংগীত বিষয়ক শিক্ষক।
১৯৭০ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা জেলার দোহার থানার লটাখোলা গ্রামের এক সংস্কৃতিমনা মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। চার ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় রামপ্রসাদ সূত্রধর (শীর্ষ পতি) সংগীতকে পেয়েছেন বংশপরম্পরা থেকে। শৈশব থেকেই সুর ছিল তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বহমান এক চিরন্তন সত্য।
সংগীত মূলত: গুরুমুখী বিদ্যা। গুরু ছাড়া এ সাধনা অসম্পূর্ণ। এই দর্শনকে শিরোধার্য করে ১৯৮৮ সালের আগস্ট মাসে এক মেঘভরা দিনে সংগীতে তার হাতেখড়ি হয় শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ মরহুম আক্কাস আলী দেওয়ানের কাছে। এরপর বিভিন্ন সময়ে বহু গুণী গুরুর সান্নিধ্যে থেকে সংগীতে দীর্ঘ তালিম নেওয়ার সৌভাগ্য তার হয়েছে। ইতি মধ্যে সংগীত ভূবনে তার দীর্ঘ ৩৮ বছর পার হয়েছে। এই নিরবচ্ছিন্ন সাধনাই তার গায়কীতে এনেছে অনন্য গভীরতা, যা সমসাময়ীক অন্য শিল্পীদের থেকে তাকে আলাদা করে তুলেছে। বিনয়ী এই শিল্পী আজও বিশ্বাস করেন, শেখার কোনো শেষ নেই, প্রতিনিয়ত সুরের পাঠশালায় একজন ছাত্র হয়ে শিখছেন।
রামপ্রসাদ সূত্রধর কণ্ঠশিলন ও প্রশিক্ষণের পাশপাশি তিনি একাধারে গীতিকার ও সুরকার হিসেবে খ্যাত। ১৯৯৮ সালে সংগীতের শিক্ষকতা দিয়ে কর্ম জীবনের শুরু করে আজ অবদি একজন পেশাদার সংগীত প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি ‘মৈত্রী শিশু দল’ এর সংগীত বিভাগের প্রশিক্ষক হিসেবে ইতিমধ্যে পুরান ঢাকায় শত শত শিশু-কিশোরদের প্রশিক্ষন দিয়ে শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলছেন। তার সংগীতের ছাত্র-ছাত্রীর অনেকেই বর্তমান সময়ের দেশের বিভিন্ন মঞ্চে দর্শক নন্দিত সংগীতশিল্পী হিসেবে উপস্থিত হন।
তার রচিত ও সুরারোপিত গানগুলোর মধ্যে- আমরা শিশু আমি শিশু, মানুষ মানুষের জীবনে এবং তার সুরে ‘উষার আকাশে উঠবে রবি, ধন্য আমি জন্ম আমার’ আজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও শিশুদের কণ্ঠে গাওয়া হয়। ১৯৯৪ সালে তার এককন্ঠে প্রকাশিত আধুনিক গানের অ্যালবাম ‘তোমার স্মৃতিগুলো’ এবং ২০০৯ সালে প্রকাশিত লোকসংগীতের অ্যালবাম ‘অন্তিমকাল’ আজও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
ভালোবাসাই পরম প্রাপ্তি তার। সংগীতে এই দীর্ঘ পথচলা এবং বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন সংগঠন থেকে অর্জন করেছেন অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কার। গুণীজনদের প্রশংসা আর প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান তাকে বারবার অনুপ্রাণিত করেছে। তবে বিনয়ী এই শিল্পীর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো অগণিত শ্রোতার নি:স্বার্থ ভালোবাসা।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ শুক্রবার, ঢাকার বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘সুন্দরবন পর্যটন ক্লাব’-এর আয়োজনে দেশের হেরিটেজ পর্যটনশিল্পের প্রবক্তা, বিশ্ব পরিব্রাজক এলিজা বিনতে এলাহীকে ‘দা আইকন অফ হেরিটেজ অফ বাংলাদেশ’ সম্মান সূচক উপাধিতে ভূষিত করে ‘টেকসই পর্যনটশিল্প উন্নয়নে সাংবাদিক-শিল্পীসমাজের ভূমিকা-শীর্ষক’ আলোচনা সভা ও বাঙালি জাতিসত্তায় আলেয়া চরিত্রের কিংবদন্তী অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে ‘শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে’ অবদানের জন্য ‘সুন্দরবন পর্যটন ক্লাব’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
সংগীত পিপাষুদের স্বপ্নের এক নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। যাদের হৃদয়ে সুর আছে কিন্তু বিকাশের সুযোগ নেই, তাদের জন্য শিল্পী নিজের তিল তিল পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সুপ্ত প্রতিভা কালচারাল সোসাইটি’। এটি কেবল একটি সংগঠন নয়, বরং একদল গানপ্রিয় মানুষের আবেগ প্রকাশের ঠিকানা। যেখানে অবহেলিত ও অন্তরালে থাকা প্রতিভাগুলো সঠিক দিশা খুঁজে পায়। সংগীতের মাধ্যমে সমাজকে সুন্দর করার এক মহান ব্রত নিয়ে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমৃত্যু সুরের পথিক হয়ে থাকতে চান সংগীতে জীবন উৎসর্গ করা, শ্রদ্ধাভাজন সংগীতগুরু রামপ্রসাদ সূত্রধর- শীর্ষপতি।

২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার, ঢাকা বাংলামোটর ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’ মিলনায়তনে ‘টেকসই পর্যনটশিল্প উন্নয়নে সাংবাদিক-শিল্পীসমাজের ভূমিকা-শীর্ষক’ আলোচনা সভা ও বাঙালি জাতিসত্তায় আলেয়া চরিত্রের কিংবদন্তী অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের সংবর্ধনা ও সমবেত সংগীত সন্ধ্যা-২০২৫ এর একটি ছবিতে প্রথম সাড়িতে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি- ফাতেমা তুজ জোহরা, সংবর্ধিত ব্যক্তি আনোয়ারা বেগম (মাঝে), বামে- মহান মুক্তিযুদ্ধের ২নং সেক্তরের ১নং সাবসেক্টর কসবার বীর মুক্তিযোদ্ধনজরুল ইসলাম, অনুষ্ঠানের মান্যবর অতিথি ফাতেমা ল’ কলেজ প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, সাথী নাট্য গেটষ্ঠির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ঢাকা বাসির’ মহানগর সভাপতি- অ্যাডভোকেট লুৎফুল আহসান বাবু, ডানে- বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) এর সভাপতি- জনাব কামরুল হাসান দর্পণ, বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের সভাপতি- এইচ এম হাসান আল মামুন (লিমন)। বাম থেকে- বসে আছেন তবলাশিল্পী স্বরণ, অ্যাওয়ার্ড পারসন গীতিকার-সাংবাদিক অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন মজুমদার, কালচারাল মাল্টি মিডিয়া’র পরিচালক- নাজমুল খান, বিশিষ্ট মডেল ফটোগ্রাফার- শফিকুল আলম মিলন, সংগীতগুরু ও মৈত্রী শিশু দল এর প্রধান প্রশিক্ষক- রামপ্রসাদ শীর্ষপতি, ২নং সেক্টর, বিএলএফ, মুজিব বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মো. লূৎফুল কবীর, জনপ্রিয় মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেতা- মো. এরাশাদ হাসান, বাংলাদেশের প্রথম নারী গিটারিস্ট- শারমিন আহমেদ মিন্নি, নির্ঝরিণী একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক- তাসলিমা বেগম নিতা, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ও টিভি অভিনেত্রী- রুমানা ইসলাম মুক্তি (শুভেচ্ছা বক্তা), মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টিভি নাটক অভিনতা- মো. শওকত হোসেন সজল, বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিআরএ) এর সাধারণ সম্মাদক- দুলাল খান, মঞ্চ, টিভি মিডিয়া ও চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী- সায়েম সামাদ ও বিশিষ্ট ফটোগ্রাফর শংকর সাহা মধু।
আপলোড- শামিমুল আহসান
ঢাকা ব্যুরো প্রদান, দৈনিক রাঙামাটি




























