রাঙামাটিতে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

20

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

রাঙামাটিতে জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মত বিনিময় সভায়  সংস্থার উপ-পরিচালক মোঃ জামাল উদ্দিন, বলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক লেখক, কবি-সাহিত্যিক রয়েছেন, যারা অনেক সৃজনশীল প্রকাশনা তথা বই বের করে থাকেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অবহেলার কারণে হোক বা সচেতনতার অভাবে হোক এর অনেক প্রকাশনার তথ্য জাতীয় আরকাইভস এ নেই। কারণ লেখকরা বই জমা না দিলে তাদের রেকর্ড থাকার কথাও নয়, অথচ বই জমাদান ও আইএসবিএন গ্রহণের বিষয়টি কপি রাইট আইন অনুযায়ী বিধিবদ্ধ।

গত রোববার (১৭ মে) রাঙামাটি জেলা গন্থাগারে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের আয়োজনে মৌলিক ও সৃজনশীল প্রকাশনা আইএসবিএন গ্রহণ ও জাতীয় গ্রন্থাগারের পুস্তক জমাদান অনুষ্ঠিত এক  মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশের কপিরাইট আইনের ৫৯ ধারা অনুযায়ী, দেশে প্রকাশিত বই জাতীয় গ্রন্থাগারে জমা প্রদান এবং আইএসবিএন (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বুক নাম্বার) গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও প্রকাশনা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং লেখক, প্রকাশক ও রাষ্ট্রীয় জ্ঞানভান্ডার সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ কপিরাইট আইন, ২০২৩এর ৫৯ ধারা অনুযায়ী- দেশে প্রকাশিত কোনো পুস্তকের প্রকাশককে প্রকাশনার তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে, বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগার থেকে আইএসবিএন সংগ্রহ করতে হয় এবং বইটির একটি উন্নতমানের কপি জাতীয় গ্রন্থাগারে জমা দিতে হয়।

তিনি বলেন, আইএসবিএন হলো প্রতিটি বইয়ের একটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি নম্বর। এটি বইকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে তালিকাভুক্তি সহজ হয়, অনলাইন বিক্রি ও ক্যাটালগিং সম্ভব হয়, বইয়ের স্বত্ব ও প্রকাশনা পরিচয় নিশ্চিত হয়, আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশগ্রহণ সহজ হয়। বই জমা দিয়ে আইএসবিএন গ্রহণ করলে বইটির প্রকাশকাল ও প্রকাশকের তথ্য সরকারিভাবে নথিভুক্ত হয়। ভবিষ্যতে কপিরাইট বিরোধ হলে এটি সহায়ক হতে পারে।

এ সময় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের হিসাব রক্ষক মোঃ জুবায়ের গাজী, আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সিনিয়র টেকনিক্যাল এসিসটেন্ট (লাইব্রেরি) মোঃ মাহাবুব ইসলাম, রাঙামাটির লেখক হাসান মঞ্জু, দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক নন্দন দেবনাথ, লেখক ও সাহিত্যিক ইন্টু মনি চাকমা, লেখক কামরুল ইসলামসহ অন্যান্য কবি সাহিত্যকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর ঢাকার চীফ বিবলিওগ্রাফার জামাল উদ্দিন আরো বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সারা দেশের পত্রিকা এবং বিভিন্ন লেখকের প্রকাশিত বই গুলো আরকাইভে সংযুক্ত করা হবে।