ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র ছায়া সংসদে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক- বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম : সরকার ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সর্বোচ্ছো অগ্রাধিকার দিচ্ছে

8

১৮ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ঢাকা ব্যুরো অফিস, দৈনিক রাঙামাটি

ঢাকা ব্যুরো অফিস : সরকার ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাকে সর্বোচ্ছো অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সর্বো”চ গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নানা উদ্যোগ সবার দায়বদ্ধতা বাড়িয়েছে। তবে এর প্রকোপ কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। জনগণ সচেতন না হলে সরকারের কোন উদ্যোগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব হবে না। ডেঙ্গু বর্তমানে জাতীয় সংকট। বিরোধী দল ডেঙ্গু প্রতিকারে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন কর্মসূচী দেয় নাই। বিপরীতে তারা লং মার্চের মাধ্যমে জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে। ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন আনতে উদ্যোগ নেয়া হবে, আশাকরি অর্থের কোন সমস্যা হবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জরিমানা আদায়ের অর্থ ডেঙ্গুতে মৃত দুুস্থ নাগরিকদের পরিবারকে প্রদানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের ব্যর্থতা ছিলো। তারা পার্শ্ববর্তী দেশকে অযাচিত সুযোগ সুবিধা দিতে দেশের সংকটকে অবহেলা করেছে। ঢাকা শহরের মূল সমস্যা দুইটি, হকার ও অটোরিকশা। হকার ও অটোরিকশা চালকদের সাথে আলোচনা চলছে, কিন্ত এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। সরকার ও বিরোধী দলের সম্মলিত প্রচেষ্টা থাকলে আশাকরি অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।

গত (১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার) বাংলাদেশ চলজিবচত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে ভোগান্তির নাম। ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ না করলেও হাসপাতালগুলোতে গেলে এর ভায়াবহতা দেখা যায়। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষেরা চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে, সিঁড়ির নিচে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সমন্বিত পদক্ষেপ ও চিকিৎসার অভাবে ডেঙ্গুর কাছে যাতে আমরা অসহায় হয়ে না পড়ি। ডেঙ্গু বিরোধী অভিযানে আদায়কৃত অর্থ ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুস্থ পরিবারকে প্রদান করা হোক। পৃথিবীর অনেক উন্নতদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার ব্যবহার শুরু হয়েছে। ডেঙ্গুর টিকায় বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ সঠিক হলেও জনস্বাস্থ ঝুঁকি না থাকলে সরকার ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ক্রয় করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বিগত শাসন আমলে ডেঙ্গু চিকিৎসার নামে নানাধরণের অনিয়ম স্পষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মশা মারার ওষুধ কেনা, ডেঙ্গু পরীক্ষার ডিভাইস সরবরাহে অনিয়ম ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, কৃত্রিম স্যালাইন সংকট, সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। আওয়ামী শাসন আমলে ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ১,৭০৫ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় দুই সিটি কর্পোরেশন মশার লার্ভা নিধনের জন্য অবিজ্ঞানসম্মত ভাবে ডোবা, নালা ও জলাশয়ে ব্যাঙ ও হাঁসের চাষের প্রকল্প গ্রহণ করে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী সরকার। সেই সময়ে নানা অনিয়মের কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার স্বাস্থ ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
“ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ” শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল কবি নজরুল সরকারি কলেজকে পরাজিত করে সরকারি দল সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান, সাংবাদিক প্রতীক ইজাজ, সাংবাদিক মো. মেহেদী হাসান ও সাংবাদিক জেনিয়া কবির সূচনা। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

সংবাদ প্রেরক: মো: আবুল বাশার, কো-অর্ডিনেটর, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
আপডেট : শামিমুল আহসান- ঢাকা ব্যুরো প্রধান, দৈনিক রাঙামাটি