পার্বত্য উপজাতিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার: ঢাকার বেইলী রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অক্টোবর ২৮ অক্টোবর

337

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১০ অক্টোবর ২০১৮, দৈনিক রাঙামাটি (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি):

রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও কৃষ্টি-কালচারের সমন্বয়ে দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক স্থাপনা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’র নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। সরকারের অর্থায়নে প্রায় ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। আগামী ২৮ অক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা এদিন প্রধান অতিথি হয়ে এ কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করবেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিদেশি কুটনীতিকগণ, দেশের বিশিষ্টজন, সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আমন্ত্রিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। উদ্ভোধনি সময় নির্ধারিত না হলেও ঐ দিন সন্ধ্যা রাতে এ উলক্ষে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

২০১৬ সালের ৮ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কমপ্লেক্সের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। “পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স” শীর্ষক এ প্রকল্পটি সরকারের মধ্য মেয়াদী বাজেটের অন্তর্ভূক্ত যা ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রæয়ারী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক- এ অনুমোদিত হয়। প্রথমে প্রকল্প ব্যয় ১২০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরে সে ব্যয় ১৬৯ কোটি টাকায় গিয়ে দাড়ায়।

এ কমপ্লেক্সে ডরমেটরি প্রশাসনিক ভবনসহ, একটি মাল্টিপারপাস হল, মিউজিয়াম, লাইব্রেরি ইত্যাদি ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণ করা হবে। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিনজন সার্কেল প্রধানের ঢাকায় অবস্থানের সময় থাকার ব্যবস্থা থাকবে। কমপ্লেক্সে একটি সাধারণ বিশ্রামাগারও থাকবে, যেখানে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যখন খুশি এসে বিশ্রাম নিতে পারবেন। এ ছাড়া সামান্য ভাড়ায় তাঁরা তিন দিন তিন রাতের জন্য রুম ভাড়াও নিতে পারবেন। থাকবে পাহাড়ি খাওয়া দাওয়ারও সুব্যবস্থা।
এক দশমিক ৯৪ একর জমির উপর এ কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবার আশা করা হলেও তা শেষ হতে অক্টোবর পর্যন্ত সময় নেয় হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে সমতলের মানুষের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান সহযোগিতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরিতে কমপ্লেক্সটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া স্থাপনাটি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি-নীতি, ভাষা, ধর্ম এবং আচরণগত স্বাতন্ত্রতা সম্পর্কে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষকে পরিচিত করে তুলবে।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।