॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেছেন, ‘শুধু স্বাস্থ্য সেবাই নয় পাহাড়ের মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে’। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ের প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ জনপদগুলোতে এখনও মানুষ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার বিষয়ে সচেতন নয়। হত দরিদ্র এসব মানুষকে তাদের স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে সচেতন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। জিও এনজিও- যারাই পাহাড়ে স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করছেন, তাদেরকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ মানুষকে স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে’ বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বুধবার স্থানীয় ‘বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা গ্রীণহিল’ আয়োজিত স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক এক অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলাপ্রশাসক এই মত ব্যক্ত করেন। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সকল ওয়ার্ডে আগামী এক বছর স্বাস্থ্য সেবার ঘাটতি পুরন তথা স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে কাজ করবে গ্রীণহিল।
‘মোমেন্টাম ইন্টিগ্রেটেড হেল্থ রেজিলিয়েন্স বাংলাদেশ’ নামক স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক এই প্রকল্পের লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং কাজের ধরণ ও প্রকৃতি তুলে ধরার জন্য গ্রীনহিল এই অবহিত করণ সভার আয়োজন করে। বুধবার (২৯ জুলাই) জেলাপ্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ নূয়েন খীসা।
আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা জেএসআই রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এর এই প্রকল্পটি রাঙামাটি জেলায় বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় এনজিও গ্রীণহিল। অর্থায়নে রয়েছে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট। রাঙামাটি জেলায় ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত এই প্রকল্পের অধীনে ৪ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্বাস্থ্য সেবাক্ষেত্রে ঘাটতি পুরণের জন্য কাজ করা হবে।
সভায় জানানো হয়, মোমেন্টাম ইন্টিগ্রেটেড হেল্থ রেজিলিয়েন্স বাংলাদেশ প্রকল্পটির অধীনে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও, কক্সবাজার জেলা সদর, উখিয়া, টেকনাফ উপজেলা এবং সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার জেলায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে কাজ করবে।
এই সময়ে প্রসূতি তথা গর্ভবতী মা, নবজাতক ও ৫ বছরের নীচে সকল শিশুর জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়াও পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ও জরুরি অবস্থার সময় নিরবিচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত থাকবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এজন্য স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করবে গ্রীণহিল।
গ্রীণহিল জানায়, ইতোমধ্যে জেলার সদর হাসপাতালে এবং জুরাছড়ি ও বরকলের দুর্গম এলাকা ঠেগা খুব্বাং, মৈদং দুমদুমিয়া ও বগাখালীতে মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বুস্টিং কার্যক্রম চালু করেছে গ্রীণহিল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী আরো বলেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে স্থাস্থ্য সেবা পৌছানোর ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা আশাবাদি যে সেব এনজিও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করছে, তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্য সেবায় আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এসব মানুষকে এতটুকু নির্ভরতা দিতে হবে যে, রোগে-শোকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কেউ না কেউ আছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোবারক হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য নাই প্রু মারমা মেরী ও প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্রহীণহিলের নির্বাহী পরিচালক যতন কুমার দেওয়ান।
সভার শুরুতে পাওয়ার পয়েন্ট পেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের ধারণা ও সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক সাইলু মং মারমা ও জেএসআইয়ের রাঙামাটি অঞ্চলের জেলা সমন্বয়কারী বিলাস সৌরভ বড়ুয়া।
প্রসঙ্গত, রাঙামাটিতে দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য উন্নয়নে ৪ কোটি, ৮৯ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৬ টাকা বরাদ্ধ প্রদান করেছে। গ্রীনহিলের অধীনে প্রকল্পটি চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এবং আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন শেষ হবে।































