|| বিশেষ প্রতিনিধি ||
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের দুমদুমিয়া গাছ বাগান এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ( বিজিবি) কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের (৪১ বিজিবি) এর অধীনস্থ দুমদুমিয়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের কর্তৃক চেকপোস্টে তল্লাশিকালে মালামালসহ আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে স্থানীয় উগ্র পাহাড়িরা বিজিবির ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে (২৮ সেপ্টেম্বর) সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম বলেন, গতকাল (২৭ সেপ্টেম্বর) রবিবার রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের দুমদুমিয়া গাছ বাগান এলাকায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ( বিজিবি) কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের (৪১ বিজিবি) এর অধীনস্থ দুমদুমিয়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের কর্তৃক চেকপোস্টে তল্লাশিকালে মালামালসহ আটক দুই ভারতীয় নাগরিক-মনসিক্কা তংচংঙ্গা ও সুশীল তংচংঙ্গা (উভয়ের বাড়ি ভারতের মিজোরাম রাজ্য)—কে ভারতীয় আধার কার্ড, কসমেটিকস ও বিপুল পরিমাণ পোশাকসহ আটক করে বিজিবি। পরবর্তীতে আটককৃতদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় রাজস্থলী থানায় হস্তান্তর করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার পথে পাহাড়ি উগ্রবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী চক্রের ১০০-২০০ জনের একটি সশস্ত্র দল বিজিবি টহলের ওপর অতর্কিত ও ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। এসময় তারা বিজিবি সদস্যদের মারধর করে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায় এবং আটককৃত দুই ভারতীয় চোরাকারবারিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, সীমান্তে দায়িত্বরত একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌম সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) ওপর আক্রমণ চালানো এবং ভারতীয় সীমান্ত অপরাধীদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব, আইন-শৃঙ্খলা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। এতে আবারও স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, পার্বত্যাঞ্চলে একটি গোষ্ঠী বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিজিবির ওপর হামলা চালিয়ে অপরাধী ছিনতাইয়ের পর উল্টো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো তাদের পুরনো ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হচ্ছে:
১. বিজিবির ওপর হামলাকারী, অস্ত্র ছিনতাইয়ের অপচেষ্টাকারী এবং দুই ভারতীয় নাগরিককে ছিনিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত সকল উগ্রবাদীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
২. অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী ও আটক থাকা দুই ভারতীয় নাগরিককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নেটওয়ার্ক দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ পিসিসিপি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলছে, সার্বভৌম বাংলাদেশ ও আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর কোনো প্রকার হামলা ও অপপ্রচার সহ্য করা হবে না। অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে কঠোর ও সর্বাত্মক রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।





















