পাহাড়ে মানবতার আলো: সেনা জোনের সহায়তায় ১৭ পাহাড়ি-বাঙালি রোগীর চোখে ফিরবে নতুন আলো!

6

|| সালাউদ্দীন শাহিন, বাঘাইছড়ি ||

দুর্গম পাহাড়ে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সেনা জোনের উদ্যোগ ও সার্বিক সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৭ জন অসহায় পাহাড়ি ও বাঙালি চক্ষু রোগীকে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়েছে।

আজ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার সকালে সাজেক সেনা জোন থেকে তাদেরকে চট্টগ্রামের স্বনামধন্য লায়ন্স চক্ষু হসপিটালে প্রেরণ করা হয়।

জানা গেছে, সেনা জোনের নিয়মিত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত কয়েকদিন ধরে সাজেক ও বাঘাইছড়ির দুর্গম এলাকায় বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। সেখানে চক্ষুজনিত বিভিন্ন সমস্যা যেমন- ছানি পড়া, দৃষ্টি ঝাপসা সহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের বাছাই করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ১৭ জন রোগীকে উন্নত অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

শুধু হাসপাতালে প্রেরণই নয়, রোগীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে সাজেক সেনা জোনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এতে অর্থের অভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত পাহাড়ের অসহায় মানুষগুলোর চোখে নতুন করে আলো দেখার স্বপ্ন জেগেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় উন্নত চিকিৎসা পাওয়া খুবই কঠিন। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগে আমরা অত্যন্ত খুশি। পাহাড়ি-বাঙালি ভেদাভেদ ভুলে সকলের জন্য এই সহায়তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সেনাবাহিনীর এই মহতী উদ্যোগ দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চক্ষু চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করার পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও আস্থার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

সাজেক সেনা জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশ ও জনগণের কল্যাণে এবং পাহাড়ের শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।