আলীকদমের দুর্গম সীমান্তে বিজিবির মেডিকেল ক্যাম্পেইন, বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ১৫০ জনের বেশি

6
আলীকদমের দুর্গম সীমান্তে বিজিবির মেডিকেল ক্যাম্পেইন, বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ১৫০ জনের বেশি

|| হামিদ হোসাইন, আলীকদম ||

বান্দরবানের আলীকদমে দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের জন্য দুই দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ক্যাম্পেইনে ১৫০ জনের বেশি মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের বান্দরবান সেক্টরের অধীন আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)-এর ব্যবস্থাপনায় ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর লিকড়ী ও বুলুপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ দুর্গম সীমান্ত এলাকায় এ মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা যায়, দুর্গম বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালন করছে ৫৭ বিজিবি। এর পাশাপাশি ‘অপারেশন উত্তরণ’-এর আওতায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে চিকিৎসাসেবা ও বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে বাহিনীটি।

এরই ধারাবাহিকতায় লিকড়ী ও বুলুপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী চিকিৎসাবঞ্চিত স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। দুই দিনব্যাপী ক্যাম্পেইনে ব্যাটালিয়নের মেডিকেল অফিসার স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধসামগ্রী বিতরণ করেন।

ক্যাম্পেইন চলাকালে স্থানীয় পাড়া কারবারী/হেডম্যান, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় পুরো কার্যক্রম।

আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী জানান, সীমান্ত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ অন্যান্য সীমান্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে মেডিকেল ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বিজিবির এ উদ্যোগ দুর্গম সীমান্ত এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।